মাঠে লড়াই শুরু হতে এখনও তিন মাস বাকি। তবু ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ইতিমধ্যেই উত্তেজনার তীব্রতা চোখে পড়ছে। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এই মুহূর্তে নেইমার। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে খেলানো প্রীতি ম্যাচের দলে নেইমারকে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রাজিলের জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এই সিদ্ধান্তই তোলপাড় সৃষ্টি করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ভক্তদের মধ্যে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে ব্রাজিল আগামী বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় ভোরে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচ, যেখানে মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু এই দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে নেইমারের নাম নেই। ২০২৩ সালের শেষ দিকে হাঁটুর মারাত্মক চোটের পর থেকে জাতীয় দলে ডাক পাননি ৩৪ বছর বয়সী তারকা। আনচেলত্তি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় এবং ম্যাচ ফিটনেসে থাকা খেলোয়াড়দের ওপর জোর দিচ্ছেন।
কিন্তু ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও মনে করছেন, কোচ এই সিদ্ধান্তে দলের সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র বাদ দিচ্ছেন। ‘জার্নাল ও দিয়া’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোমারিও বলেছেন, “জাতীয় দলে একজন তারকা থাকাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির এক মাস সময় যথেষ্ট একজন খেলোয়াড়ের ফিটনেস ফিরে পাওয়ার জন্য। শতভাগ ফিট না থাকলেও নেইমারের মতো একজন তারকা দলে থাকা অন্য খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক বেশি উপকারী।”
১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী রোমারিও আরও বলেছেন, “প্রতিভা নষ্ট করা যাবে না। আমি আশা করি নেইমার ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে প্রমাণ করবে যে সে চূড়ান্ত দলে থাকার যোগ্য এবং ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতার লড়াইয়ে অংশ নেবে। মিস্টার, (নেইমারের দিক) একটু খেয়াল রাখবেন।”
রোনালদো নাজারিওও রোমারিওর সঙ্গে একমত, যদিও তার সুর একটু মৃদু। ১৯৯৪ ও ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই স্ট্রাইকার বলেছেন, “১২৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমারকে পরীক্ষা করার দরকার নেই। সে ফিট থাকলে আমি তাকে বিশ্বকাপে নিতাম। আনচেলত্তিও তাকে দলে নেবেন, আমি নিশ্চিত। সে সব ম্যাচ না খেললেও, যেখানে খেলেছে নিজেকে প্রমাণ করেছে। সাম্প্রতিক চোটে ভুগেছে, কিন্তু বিশ্বকাপে নেওয়ার জন্য নতুন যাচাই দরকার নেই।”
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল মে মাসের মাঝামাঝি ঘোষণা করা হবে। এখন নেইমারের একমাত্র লক্ষ্য—ফিটনেস প্রমাণ করা। যদিও সান্তোসের হয়ে তিনি ইতিমধ্যেই পাঁচটি ম্যাচ মিস করেছেন, খেলায় অংশ নেওয়া তিন ম্যাচে তিনটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট দিয়ে দেখিয়েছেন, “আমি এখনো ফুরিয়ে যাইনি।”
নেইমারের সাম্প্রতিক ফর্ম ও ফিটনেস
| মৌসুম/টিম | ম্যাচ খেলা | গোল | সহায়তা (অ্যাসিস্ট) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| সান্তোস (2026) | 3 | 3 | 1 | চোটে কিছু ম্যাচ মিস, তবে ফর্মে ফিরছেন |
| জাতীয় দল (শেষ ডাক 2023) | – | – | – | হাঁটুর চোটের কারণে ডাক মিস |
| আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা | 128 | 79 | – | বিশ্বকাপে পরীক্ষার প্রয়োজন নেই |
এভাবে নেইমারের উপস্থিতি এবং ফিটনেস নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকবে। বিশ্বকাপের আগে তার যোগ্যতা প্রমাণ করা না হলে আনচেলত্তির দল গঠনও চূড়ান্তভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠবে। রোমারিওর সতর্কবার্তা স্পষ্ট: প্রতিভাকে উপেক্ষা করলে দলের স্বপ্ন আংশিকই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
