নীলফামারীতে গাছ কেটে সংঘর্ষে নিহত

নীলফামারীর ডোমার পৌর শহরে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫০ বছর বয়সী মজনু নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন এবং পুলিশ দুই জনকে আটক করেছে।

ঘটনা ঘটেছে বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ডোমার পৌর শহরের ময়দান পাড়া এলাকায়। নিহত মজনু ওই এলাকার মৃত তফির উদ্দিনের ছেলে এবং ডোমার পৌর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ জমিতে শুকনো একটি গাছ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মজনু, বাবলু ও নুরুল হক কালু নামের তিনজন ওই গাছ কাটার চেষ্টা করছিলেন। এরই মধ্যে প্রতিপক্ষ বেলাল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। উত্তেজনা ক্রমশ বেড়ে গিয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় তিনজন আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের ডোমার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আসমা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মজনুকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাকি দুই আহতকে রংপুরে রেফার্ড করা হয়েছে।

মজনুর ভাজতি মিম অভিযোগ করেন, “আমরা থানায় এবং ট্রিপল নাইন-এ ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ দেরিতে পৌঁছায়। যদি পুলিশ তৎক্ষণাৎ উপস্থিত হতো, হয়তো মৃত্যুর মতো ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া যেত।”

ডোমার থানার ওসি হাবিবুল্লাহ হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলা দায়ের করা হবে।”

নিচে সংঘর্ষের সংক্ষিপ্ত তথ্য তালিকাভুক্ত করা হলো:

স্থাননিহতআহতসংঘর্ষের কারণআটককৃত
ডোমার পৌর শহর, ময়দান পাড়া১ (মজনু, ৫০)২ (রংপুরে রেফার্ড)গাছ কাটা নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি২ জন

স্থানীয়রা বলছেন, এই ধরনের সংঘর্ষ প্রতিরোধে দ্রুত পুলিশি হস্তক্ষেপ অপরিহার্য। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে বিরোধপূর্ণ জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্যায় শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার জন্য প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে।

এই ঘটনায় নীলফামারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রশাসনের প্রতি দ্রুত প্রতিক্রিয়ার গুরুত্ব পুনরায়浮িয়ে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, সময়মতো হস্তক্ষেপ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মনিটরিং বৃদ্ধি করলে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।