চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কের হামজারবাগ এলাকায় গত রবিবার দিনদুপুরে অস্ত্র উঁচিয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে। এই ঘটনায় নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসীদের এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামজারবাগ এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। এ সময় তিন যুবক হঠাৎ সেখানে প্রবেশ করেন, তাদের মধ্যে দুজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা ভবনের ভেতরে কয়েক রাউন্ড গুলি চালালে শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটে যান। পরে অস্ত্র হাতে নিয়েই ব্যস্ত সড়ক পার হয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীরা ভয়ের কারণে এখনো থানায় মামলা করেননি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। পুলিশের অভিযানের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, ভবন মালিক মিজান ও জসিমের কাছে বিদেশে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলীর নামে প্রায় ৮০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয় দেখাতে এ ধরনের প্রকাশ্য হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর এলাকার স্থানীয়রা জানান, একই এলাকায় আরও দুই ব্যক্তি—আমির হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম—ভয়ে তাদের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন।
অতিরিক্ত তথ্য অনুযায়ী, সাজ্জাদ আলীর সন্ত্রাসী বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ড ও অস্ত্রবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত। ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগকালে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনিসহ আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসী সারোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন। এ ঘটনায় বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। যদিও প্রধান শ্যুটারদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, সাজ্জাদের অনুসারী সাজ্জাদ হোসেন বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার সন্ত্রাসী বাহিনী এখনো সক্রিয়।
নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্যসংক্ষেপ টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা | দিনদুপুরে সন্ত্রাসীদের গুলি চালানো |
| স্থান | হামজারবাগ, মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়ক, চট্টগ্রাম |
| সময় | রবিবার, দিনদুপুর |
| আহত/মৃত | কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি |
| পুলিশ পদক্ষেপ | সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেফতারের অভিযান |
| ঘটনার পেছনের কারণ | চাঁদাবাজি, ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য |
| সামাজিক প্রভাব | স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক, নির্মাণকাজ বন্ধ |
| সন্ত্রাসীর পরিচয় | বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা |
| অতীত ঘটনার প্রেক্ষাপট | ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ আসনে গুলিবর্ষণ, ৫ জন গুলিবিদ্ধ, ১ নিহত |
পুলিশ জানিয়েছে, তারা জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য তৎপর রয়েছে এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এলাকার মানুষ ভয়ে এখনও সাবধান অবস্থায় রয়েছেন। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে।