লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কার্যালয়ের নিচতলার একটি কক্ষে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে গেছে। শনিবার ভোর আনুমানিক চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিকল্পিতভাবে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কার্যালয়ে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভোরের নীরব সময়ে মুখে মাস্ক পরা এক যুবক কার্যালয়ের পশ্চিম পাশের উঁচু দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর নিচতলার একটি কক্ষে হঠাৎ আগুন জ্বলে উঠতে দেখা যায়। আগুন লাগানোর পরপরই ওই যুবক আবার একইভাবে দেয়াল টপকে কার্যালয় ত্যাগ করেন। পুরো ঘটনাটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে যায়।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসাইন জানান, ‘সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মাস্ক পরা এক যুবক পেট্রল ঢেলে কক্ষে আগুন লাগান। সে সময় কার্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনের আঁচ ও ধোঁয়া টের পেয়ে তিনি চিৎকার করলে যুবক দ্রুত পালিয়ে যায়।’ তিনি আরও জানান, স্টোররুমে দেওয়া এই আগুনে ২০০৮ ও ২০০৯ সালের ভোটারদের দ্বিতীয় ফরম পুড়ে গেছে, যা প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া একটি অকেজো ডেস্কটপ, সিপিইউসহ আরও কিছু অফিস সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুর রশিদ বলেন, ‘আগুনের ঘটনা দুঃখজনক। তবে দ্রুত বিষয়টি নজরে আসায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আগুন খুব বেশি ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।’ তিনি জানান, নথিপত্রের ক্ষয়ক্ষতির একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। যদিও তাদের পৌঁছানোর আগেই কার্যালয়ের কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মীদের প্রচেষ্টায় আগুন নেভানো হয়। পরে জেলা প্রশাসকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল হক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি নাশকতার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ বলেই মনে হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।’ তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।