নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এক জটিল ও বহুমাত্রিক সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে প্রায় অর্ধশত সংসদীয় আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। বহিষ্কার ও সাংগঠনিক শাস্তির হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে তারা স্বতন্ত্র পরিচয়ে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। সর্বশেষ তথ্যানুসারে, প্রায় ৫০টি আসনে ৯১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা দলীয় ঐক্য ও নির্বাচনি কৌশলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সাবেক ও বর্তমান অনেক স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মাঠপর্যায়ে বিএনপির ইউনিটগুলোতে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও একই ভোটব্যাংকের মধ্যে একাধিক প্রার্থী দাঁড়িয়ে পড়ায় ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিনেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। বরং প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার পর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

জোটগত রাজনীতির বাস্তবতায় বিএনপি ২৯২টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী দেয়, তবে তিনটি আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বর্তমানে ২৮৯টি আসনে দলীয় প্রার্থী রয়েছে। জোটসঙ্গীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া অন্তত ছয়টি আসনেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে থাকায় জোটের সমন্বয় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ঢাকার একাধিক আসন, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা ও অন্যান্য জেলায় এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি নির্বাচনি সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে।

নিচের ছকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—

বিষয়সংখ্যা/তথ্য
বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় আসনপ্রায় ৫০টি
মোট বিদ্রোহী প্রার্থী৯১ জন
বিএনপির মনোনয়ন বাতিল৩টি আসন
ধানের শীষে বর্তমান প্রার্থী২৮৯টি আসন
জোটসঙ্গীকে ছেড়ে দেওয়া আসন৮টি

এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চারটি রাজনৈতিক দলকে সতর্ক করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বকে বিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে বিএনপির একজন মনোনীত প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর সাত শীর্ষ নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, ১২২টি দেশ থেকে প্রবাসীরা এই ব্যবস্থায় ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন, যা বাস্তবায়নে ভিন্ন ভিন্ন দেশের ডাক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও নির্বাচন কমিশনের টিম সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি, জোটগত সমীকরণ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং নতুন ভোটিং ব্যবস্থার বাস্তবায়ন—এই সবকিছু মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষাও হয়ে উঠেছে।