আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রচার-প্রচারণা জোরদার হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবার নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রচারণা শুরুর দিন ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতের মধ্যে সব ধরনের প্রচার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রণীত ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি ২০২৫’-এ এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত নির্দেশনা হলো পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। আচরণবিধির ৭(ক) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—নির্বাচনী প্রচারে কোনো অবস্থাতেই পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক দল, মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং তাঁদের পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আচরণবিধির ৭(খ) ধারায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বা সহজে নষ্ট হয় এমন উপকরণ—যেমন রেক্সিন, পলিথিন বা প্লাস্টিক—ব্যবহার করে কোনো লিফলেট, ব্যানার বা হ্যান্ডবিল ছাপানো বা বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭(গ) ধারায় বলা হয়েছে, ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার ছাড়া অন্য সব ছাপানো প্রচার সামগ্রী অবশ্যই সাদাকালো হতে হবে; রঙিন মুদ্রণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
নির্বাচন কমিশন প্রচার সামগ্রীর আকার, রঙ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করেছে। ব্যানার অনুভূমিক বা উল্লম্ব—যেভাবেই টাঙানো হোক না কেন, তার আকার নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে। নিচের ছকে অনুমোদিত প্রচার সামগ্রীর বিস্তারিত দেওয়া হলো—
| প্রচার সামগ্রী | সর্বোচ্চ আকার | রঙের বিধান | অনুমোদিত ছবি/চিহ্ন |
|---|---|---|---|
| ব্যানার | ১০ ফুট × ৪ ফুট | সাদাকালো | প্রার্থীর ছবি ও প্রতীক |
| লিফলেট/হ্যান্ডবিল | এ–৪ সাইজ | সাদাকালো | প্রার্থীর ছবি ও প্রতীক |
| ফেস্টুন | ১৮ ইঞ্চি × ২৪ ইঞ্চি | সাদাকালো | প্রার্থীর ছবি ও প্রতীক |
পোস্টার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নির্বাচন কমিশন ছাপাখানা ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সরাসরি সতর্ক করেছে। কমিশনের সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় পোস্টার ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে, যা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে কোনো ছাপাখানা বা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচনী পোস্টার মুদ্রণ না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এই কঠোর বিধিনিষেধের লক্ষ্য হলো নির্বাচনকে সুশৃঙ্খল, সমতাভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব করা। সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আচরণবিধি মেনে চলার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করার জন্য।
