বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্ক গড়ে উঠেছে। জাতীয় নির্বাচনে বৃহত্তর রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ না থাকার কারণে ভোটের বৈধতা এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ruling party হিসেবে গণ্য করা আওয়ামী লীগ ভোটে অংশগ্রহণ করেনি, যা এক প্রকার রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অভাব আগের তিনটি নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে একটি ধারাবাহিক প্রবণতা নির্দেশ করে। অতীতে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় সেই সংসদকে “একতরফা সংসদ” বলা হতো। এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি একই প্রেক্ষাপটে নতুন দিক যোগ করেছে।
একজন রাজনীতিবিদ মন্তব্য করেছেন, “আগের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করার কারণে সংসদে স্বাভাবিকভাবেই একটি পক্ষের দখল লক্ষ্য করা যেত। এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি দেখা যাচ্ছে যে, প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছেন না। যদি জনগণ সঠিকভাবে ভোটের মাধ্যমে তাদের মত প্রকাশ করতে পারত, তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পেত।” তিনি আরও যোগ করেছেন যে, মানুষের ভোটের প্রতি আস্থা রাখা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
রাজনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকরা একমত যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ মানুষের মৌলিক অধিকার এবং গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত। সবার জন্য উন্মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করলে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থী বা দলকে সমর্থন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারত।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও বৈধতা বোঝাতে বিশ্লেষকরা একটি সংক্ষিপ্ত টেবিল প্রস্তাব করেছেন:
| নির্বাচনে দল | অংশগ্রহণের অবস্থা | নির্বাচনের বৈধতায় প্রভাব |
|---|---|---|
| বিএনপি | অংশগ্রহণ করেনি | সংসদ একতরফা বলা যায় |
| আওয়ামী লীগ | অংশগ্রহণ করেনি | ভোটে ৩০% মানুষের প্রতিনিধিত্ব নেই |
| অন্যান্য দল | অংশগ্রহণ করেছে | নির্বাচন আংশিক প্রতিনিধিত্বযোগ্য |
বিশ্লেষকরা আরও মন্তব্য করেছেন, যদি সমস্ত রাজনৈতিক দল নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিত, তবে জনগণের মতামত আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেত। ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের সমর্থন বা অসন্তোষ ব্যক্ত করতে পারত।
অন্যদিকে, সাধারণ জনগণও উদ্বিগ্ন যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা দলগুলোর কারণে তাদের ভোটের গুরুত্ব প্রভাবিত হচ্ছে। সব দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
সুতরাং, অংশগ্রহণ এবং ভোটের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি। জনগণ এই সুযোগ পেলে তারা নিজেদের মতামত স্পষ্টভাবে এবং স্বচ্ছভাবে ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ করতে সক্ষম হবেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।
এবারের নির্বাচনী প্রেক্ষাপট তাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, গণতন্ত্র শুধু ভোটের সংখ্যা নয়, বরং ভোটের মান এবং অংশগ্রহণের বিস্তৃতিই তার মূল মাপকাঠি।
