আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বারোতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সমসাময়িক গণভোটের দিন প্রার্থীদের এবং তাদের ভোটকেন্দ্রীয় এজেন্টদের চলাচলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার লক্ষ্য হল ভোটকেন্দ্রের ভেতরে এবং বাইরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, নির্বাচনী আচরণে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ সুনিশ্চিত করা।
অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, প্রচুর যানবাহন ও বড় সমাবেশ প্রায়ই ভোটকেন্দ্রগুলোর আশেপাশে যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এই শিক্ষার ভিত্তিতে কমিশন এবার প্রতিরোধমূলক এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী প্রণয়ন করেছে।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি প্রার্থী ও ভোটকেন্দ্রীয় এজেন্ট কেবল একটি ছোট যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। অনুমোদিত যানবাহনের মধ্যে রয়েছে জীপ, প্রাইভেট কার, মিনি বাস, সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং সাধারণ অটোরিকশা। প্রতিটি যানবাহনে সর্বাধিক পাঁচজন যাত্রী থাকতে পারবেন, যার মধ্যে ড্রাইভারও অন্তর্ভুক্ত। প্রার্থী সঙ্গে থাকা সরকারি নিরাপত্তা প্রহরী বা নিযুক্ত বডিগার্ডও এই সীমার মধ্যে গণ্য হবে; অতিরিক্ত আসন বা যাত্রী অনুমোদিত নয়। ড্রাইভারকে অবশ্যই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে; বৈধ লাইসেন্স ছাড়া যানবাহন নির্বাচনী দিনে অননুমোদিত হিসেবে গণ্য হবে।
দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। যেখানে চার চাকার যানবাহন চলতে সক্ষম নয়, সেখানে প্রতিটি প্রার্থী ও ভোটকেন্দ্রীয় এজেন্ট সর্বাধিক দুটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন, প্রতি মোটরসাইকেলে সর্বাধিক দুইজন যাত্রী থাকতে পারবেন। বৈধ লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। এই নিয়মটি পাহাড়ি ও অবকাঠামোগতভাবে চ্যালেঞ্জযুক্ত অঞ্চলের প্রার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে।
নদীমুখী বা জলপথ নির্ভর অঞ্চলে, প্রতিটি প্রার্থী বা ভোটকেন্দ্রীয় এজেন্ট একটি করে নৌকা ব্যবহার করতে পারবেন, যা সর্বাধিক পাঁচজন যাত্রী বহন করতে পারবে, যার মধ্যে নৌকোচালকও অন্তর্ভুক্ত। অতিরিক্ত যাত্রী অনুমোদিত নয়।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রার্থী, ভোটকেন্দ্রীয় এজেন্ট বা অনুমোদিত নিরাপত্তা প্রহরী ছাড়া অন্য কেউ নির্বাচনী দিনের যানবাহন ব্যবহার করতে হলে প্রাসঙ্গিক রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিতে হবে এবং অফিসিয়াল পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। অনুমোদিত যানবাহনে কমিশন প্রদত্ত স্টিকার দৃশ্যমানভাবে লাগানো আবশ্যক। অনুমোদিত স্টিকার বা অনুমতি ছাড়া চলাচল আইনানুগ ব্যবস্থা ডেকে আনবে।
ভোটকেন্দ্রে প্রবেশও সীমিত: শুধুমাত্র প্রার্থী, ভোটকেন্দ্রীয় এজেন্ট এবং নিরাপত্তা প্রহরীরা প্রবেশ করতে পারবেন। যে কোনো লঙ্ঘন কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ডেকে আনবে।
নির্বাচনী দিনে অনুমোদিত যানবাহন সংক্ষিপ্তসারণ
| চলাচলের মাধ্যম | অনুমোদিত যানবাহন | সংখ্যা | যাত্রী সীমা |
|---|---|---|---|
| সড়ক | জীপ, কার, মিনি বাস, সিএনজি/অটোরিকশা | ১ প্রতি প্রার্থী/এজেন্ট | ৫ (ড্রাইভারসহ) |
| দুর্গম এলাকা | মোটরসাইকেল | সর্বাধিক ২ | ২ প্রতি মোটরসাইকেল (ড্রাইভারসহ) |
| জলপথ | নৌকা | ১ প্রতি প্রার্থী/এজেন্ট | ৫ (নৌকোচালকসহ) |
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই কঠোর বিধিনিষেধ প্রয়োগ করলে শান্তিপূর্ণ এবং ন্যায্য নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত হবে, ভোটে অনিয়ম ও প্রভাবসৃষ্টির সম্ভাবনা কমবে, এবং ভোটাররা নিরাপদে এবং বিঘ্নহীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
