ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর গত ২১ জানুয়ারি থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু করেছে। এই পরীক্ষা ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে, যা নির্বাচনের আগেই নিশ্চিত করবে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার।
প্রতিটি জেলায় একাধিক বোর্ড গঠনের মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নুর মো. শামসুজ্জামান জানান, “নির্বাচনের কারণে জেলা প্রশাসক ব্যস্ত থাকলেও অতিরিক্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বোর্ডগুলো যথাযথভাবে পরিচালিত হবে।” তবে অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, নির্বাচনের মাত্র ১৫ দিন আগে এত বৃহৎ সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের জন্য মৌখিক পরীক্ষা শুরু করা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। জেলার জেলা প্রশাসক বোর্ডের সভাপতি ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্য সচিব থাকলেও নির্বাচনী কার্যক্রমের কারণে তারা পূর্ণ সময় দিতে পারছেন না, যা অনিয়ম, গুজব ও বাণিজ্যের আশঙ্কা তৈরি করছে।
এ বছর মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন এসেছে। পূর্বে মৌখিক পরীক্ষায় ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকলেও এবার তা ১০ নম্বরে হ্রাস করা হয়েছে এবং প্রথমবার পাস-ফেল সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি বোর্ডে অধিদপ্তর থেকে একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন।
লিখিত পরীক্ষায় নির্বাচিত প্রার্থীদের কার্যক্রম ও সময়সূচি নিম্নরূপ:
| তারিখ | কার্যক্রম | নির্বাচিত প্রার্থীর সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ৯ জানুয়ারি | লিখিত পরীক্ষা | 69,265 | ৬১টি জেলায় অনুষ্ঠিত |
| ২১ জানুয়ারি | লিখিত ফলাফল প্রকাশ | 69,265 | মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত |
| ২৮ জানুয়ারি – ৩ ফেব্রুয়ারি | মৌখিক পরীক্ষা | 69,265 | একাধিক বোর্ডে পরিচালিত |
| ১০ ফেব্রুয়ারি | চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ | 14,000+ | নির্বাচনের আগেই প্রকাশের পরিকল্পনা |
লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে প্রায় ২০০ জন পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট চক্র আটক হয়েছে। গাইবান্ধা, নওগাঁ, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা, জামালপুর ও ভোলা জেলায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও প্রক্সি ব্যবহার করে জালিয়াতির চেষ্টা ধরা পড়েছে। এই ঘটনায় প্রার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে ঘেরাও করেন।
প্রার্থীদের অবশ্যই অনলাইনে আপলোডকৃত ছবি, আবেদনপত্র, নাগরিকত্ব সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ২৭ জানুয়ারির মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ও সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হবে।
সার্বিকভাবে, নির্বাচনের প্রভাবে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া তাড়াহুড়া ও বিতর্কমুখর হয়ে উঠেছে। নিয়োগ তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করা হলেও তাতে সম্ভাব্য অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও জনমতের প্রতিক্রিয়ার প্রশ্ন চরমভাবে উঠে এসেছে।
