আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনেও দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বরগুনা, কুমিল্লার দেবিদ্বার এবং গাজীপুরের টঙ্গীসহ বেশ কিছু এলাকায় রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এসব ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্যসহ বহু কর্মী-সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন, যা নির্বাচনি পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
Table of Contents
বরগুনায় সাবেক এমপির ওপর বর্বরোচিত হামলা
বরগুনা-২ (বেতাগী-পাথরঘাটা-বামনা) সংসদীয় আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন। গতকাল সোমবার বিকেল ৪টার দিকে পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তার নিজ বাসভবনের সামনে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি ব্যক্তিগত কাজে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হলে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র ও লোহার পাইপ নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সৌভাগ্যবশত সেই সময় পাশ দিয়ে যাওয়া জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিলের নেতা-কর্মীরা তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীকালে নৌবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে কর্মীদের ওপর আক্রমণ
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার ৩ নম্বর সুবিল ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর দক্ষিণ বাজারে এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিনের কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এতে তিন জন প্রচারকর্মী আহত হয়েছেন।
টঙ্গীতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘর্ষ
গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় নির্বাচনি মিছিলের ভেতর দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। গাজীপুর-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনির মিছিল চলাকালে বিএনপি নেতা সুমন সরকার ও কিরণের সমর্থকদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়, যাতে অন্তত ১০ জন আহত হন।
নির্বাচনি সহিংসতার প্রধান প্রধান ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
| এলাকা | ভুক্তভোগী/আহত | ঘটনার বিবরণ | বর্তমান অবস্থা |
| বরগুনা-২ | গোলাম সরোয়ার হিরু (সাবেক এমপি) | নিজ বাসভবনের সামনে ধারালো অস্ত্র ও পাইপ দিয়ে হামলা। | চিকিৎসাধীন, এলাকায় যৌথ বাহিনী মোতায়েন। |
| দেবিদ্বার | ৩ জন (বিএনপি ও গণঅধিকার কর্মী) | অটোরিকশায় প্রচার চালানোর সময় এনসিপি সমর্থকদের হামলা। | স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান। |
| টঙ্গী | ১০ জন নেতা-কর্মী | মিছিলে অংশ নেওয়া দুই পক্ষের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাগ্বিতণ্ডা ও মারামারি। | পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত। |
| লালমনিরহাট | শিহাব আহম্মেদ (স্বতন্ত্র প্রার্থী) | প্রার্থীর গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর। | তদন্তাধীন ও উত্তেজনা বিরাজমান। |
নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ ও জনমনে শঙ্কা
নির্বাচনের একদম শেষ মুহূর্তের এই সহিংসতায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। লালমনিরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহম্মেদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, অনেক এলাকায় প্রার্থীরা নিরাপদ বোধ করছেন না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার শিকার এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে বারবার উৎসবমুখর পরিবেশের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ের এই বাস্তব চিত্র জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
