ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তীব্র ঘনিষ্ঠ সময়ে দেশের নির্বাচন প্রশাসন পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও, নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিস এবং ভোটকেন্দ্র পর্যায়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
গত মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং চার কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), ডিআইজি রেঞ্জ, বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রচারণা এবং নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রাজশাহী বিভাগের এক ডিসি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই জেলা নির্বাচন অফিসে ছয়জন করে আনসার মোতায়েনের প্রস্তাব এসেছে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও জরুরি। খুলনা অঞ্চলের জেলা-উপজেলার অফিসগুলো সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে পুলিশ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন। খুলনা জেলার ১০টি অফিসে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা থাকলেও উপজেলা অফিসগুলো এখনও ঝুঁকিতে রয়েছে।
কক্সবাজারে নির্বাচনের সময় হোটেল-মোটেল বন্ধ রাখার প্রস্তাব উঠেছে, কারণ সন্ত্রাসী ছদ্মবেশে হোটেলে অবস্থান করতে পারে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ডিসিকে নির্দেশ দিয়েছেন, ঝুঁকি দেখা দিলে নিজ উদ্যোগে হোটেল বন্ধ করার সুযোগ রয়েছে।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটকেন্দ্রে ৪৮ ঘণ্টা আগে মোতায়েন হবে। এবার ৯ দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য মাঠে থাকবেন – নির্বাচনের পাঁচ দিন পূর্বে, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পর তিন দিন। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় জটিলতা রয়েছে।
নিম্নলিখিত টেবিলটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সারসংক্ষেপ দেয়:
| জেলা/উপজেলা | ঝুঁকিপূর্ণ অফিস | প্রস্তাবিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা | বিশেষ মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| খুলনা | ১০টি জেলা, উপজেলা অফিস | সার্বক্ষণিক আনসার মোতায়েন | বাজেট সীমাবদ্ধতা |
| রাজশাহী | জেলা অফিস | ছয়জন আনসার মোতায়েন | সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা প্রয়োজন |
| কক্সবাজার | হোটেল-মোটেল | নির্বাচনের সময় সাময়িক বন্ধ | ছদ্মবেশী সন্ত্রাসী এড়াতে |
| ঢাকা | ভোটকেন্দ্র | ৪৮ ঘণ্টা আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রচারণা |
বৈঠকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “আপনাদের কথাবার্তা শুনে আমার বুকের জোর অনেক বেড়েছে। মাঠে গিয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। রিটার্নিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের নির্বাচনে ভিআইপি হিসেবে বিবেচনা করি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে প্রচারণা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। নির্বাচনের সময় অভিযোগ সমাধান, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে, নির্বাচন কমিশন এবং মাঠ প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
