ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছেন জাতিসংঘ বিশেষ দূত। আইনটির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত আইনটি স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের চরম দারিদ্র্য বিষয়ক বিশেষ দূত অলিভিয়ার ডি শ্যুটার। ১২ দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সুপারিশ করেন। ঢাকার জাতিসংঘ কার্যালয় একটি হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে সুশীল সমাজ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পরছে না। স্বাধীন মতামত প্রকাশের কারণে এ আইনের আওতায় সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, বিরোধী দলের রাজনীতিক ও শিক্ষকদের আটক করা হয়েছে। এ আইনটি কার্যকর হওয়ার পর দুই হাজার চারশ’র বেশি মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছে। যখন সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসার সময় হয়, তখনই আইনটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যারা মানবাধিকারের জন্য লড়াই করেন, তারা ভয়ভীতির মধ্যে বসবাস করবেন- এটি স্বাভাবিক নয়।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছেন জাতিসংঘ বিশেষ দূত
বিশেষ এই দূত আরো বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে প্রত্যাশিত স্তরে উন্নীত হওয়ার পর অধিকার-ভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বাংলাদেশ সরকারকে সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। মানুষকে দারিদ্র্যের মধ্যে রেখে একটি দেশ তার আপেক্ষিক সুফল বা উন্নয়ন ভোগ করতে পারে না। বাংলাদেশের উন্নয়ন মূলত তৈরি পোশাক শিল্পের মতো একটি রপ্তানি খাত দ্বারা ব্যাপকভাবে চালিত, যা সস্তা শ্রমের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল।
ডি শুটার বাংলাদেশ সরকারকে ২০২৬ সালে এলডিসি মর্যাদা থেকে আসন্ন উন্নীতকরণের সুযোগকে ব্যবহার করে তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর তার নির্ভরতা পুনর্বিবেচনা করার জন্য আহ্বান জানান, কারণ এই শিল্প ৪ মিলিয়ন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের বর্তমান রপ্তানি আয়ে শতকরা ৮২ ভাগ অবদান রাখছে।