বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সম্প্রতি নয়জন নেতাকে দলীয় শৃঙ্খলা অমান্য করার অভিযোগে বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কার হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, বহিষ্কৃত নেতাদের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সকল পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয়, মহানগর এবং জেলা পর্যায়ের দায়িত্বে থাকা সদস্যরা রয়েছে।
নিম্নে বহিষ্কৃত নয়জন নেতার বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো:
| ক্র. নং | পদবি / দায়িত্ব | নাম |
|---|---|---|
| ১ | জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক | ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা |
| ২ | জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য | মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন |
| ৩ | জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য | মোহাম্মদ শাহ আলম |
| ৪ | জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য | হাসান মামুন |
| ৫ | জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য | আব্দুল খালেক |
| ৬ | কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব | তরুণ দে |
| ৭ | ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক | সাইফুল আলম নীরব |
| ৮ | সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি | মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) |
| ৯ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি | কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এই পদক্ষেপ মূলত দলের শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিয়মনীতি রক্ষার অংশ। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তা শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হিসেবে ধরা হয়। বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্য অনেকেই দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন, তাই এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রভাবও ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্বের দায়িত্ব সুসংহত করার জন্য আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শৃঙ্খলা রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে দলকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করার জন্য।
বিএনপি নেতারা মনে করেন, দলের জন্য কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ কখনও কখনও প্রয়োজনীয়, যাতে কোনো সদস্য দলের নীতি ও সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা না করে।
