ডিজিটাল সম্পদের জগতে নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ভাবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার যে চ্যালেঞ্জ, তা মোকাবিলায় হংকং ধীরে কিন্তু সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। শহরটির সবচেয়ে বড় লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ হ্যাশকি গ্রুপের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি সেই কৌশলগত অগ্রযাত্রাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, বরং হংকংকে একটি বৈশ্বিক ডিজিটাল সম্পদকেন্দ্রে রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করা হ্যাশকি গ্রুপ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে হংকংয়ের শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু করে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি এশিয়ার অল্প কয়েকটি তালিকাভুক্ত ক্রিপ্টো সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মধ্যে স্থান করে নেয়। যেখানে মূল ভূখণ্ড চীনে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন ও মাইনিং কার্যত নিষিদ্ধ, সেখানে হংকং সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছে। সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বদলে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে এই খাতকে বিকশিত করার নীতিই এখানে অনুসরণ করা হচ্ছে।
হ্যাশকি গ্রুপ একটি পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ পরিচালনা করে। এর পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ট্রেডিং অবকাঠামো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল সম্পদের হেফাজত এবং নিয়ন্ত্রক সম্মতি নিশ্চিত করার মতো সেবাও প্রদান করে থাকে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রথম দিনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেলেও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে শেয়ারের দাম ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে লেনদেন শেষ হয় প্রতি শেয়ার ৬ দশমিক ৫০ হংকং ডলারে।
প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে হ্যাশকি গ্রুপ প্রায় ২০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূলধন সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এই তহবিল সংগ্রহ প্রমাণ করে যে নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ ডিজিটাল সম্পদ খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনও দৃঢ় রয়েছে।
তালিকাভুক্তি অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিয়াও ফেং বলেন, আস্থা, স্বচ্ছতা এবং আইনগত সম্মতি ছাড়া ডিজিটাল সম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। যদিও হ্যাশকির অনেক উদ্যোক্তা ও শীর্ষ কর্মকর্তা মূল ভূখণ্ড চীন থেকে আসা, তবুও হংকংয়ের শক্তিশালী আইনি কাঠামো, গভীর পুঁজিবাজার এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ প্রতিষ্ঠানটির বিকাশে সহায়ক হয়েছে।
হংকংয়ের ক্রিপ্টো নীতি মূল ভূখণ্ড চীনের তুলনায় স্পষ্টভাবেই ভিন্ন। এখানে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা, তদারকি কাঠামো এবং চলতি বছরে স্টেবলকয়েনের জন্য আলাদা নীতিমালা চালু করার মাধ্যমে দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের পথ সুগম করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ হংকংকে সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের মতো বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখবে এবং ডিজিটাল সম্পদের উত্থানকে একটি নিয়ন্ত্রিত ও টেকসই পথে পরিচালিত করবে।
