নিয়তির টানে রিয়াল–বেনফিকা দ্বৈরথ

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে কখনো কখনো এমন নাটকীয় মিল দেখা যায়, যাকে নিছক কাকতাল বলা কঠিন। লিগ পর্বের শেষ দিনে উত্তেজনাপূর্ণ এক লড়াইয়ের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদও পর্তুগালের গর্ব বেনফিকা। এবার মঞ্চ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-এর শেষ ষোলোর প্লে–অফ। বাংলাদেশ সময় আজ রাত দুইটায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

লিগ পর্বের নাটকীয় স্মৃতি

লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে লিসবনের এস্তাদিও দা লুজে ৪–২ গোলে জয় পায় বেনফিকা। সেই ম্যাচের ফলাফলই দুই দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। রিয়াল সামান্য গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় সরাসরি শেষ ষোলোয় ওঠা হয়নি তাদের; খেলতে হচ্ছে প্লে–অফে।

ম্যাচের শুরুটা ছিল রিয়ালের পক্ষে। ৩০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ছয় মিনিটের মধ্যে সমতা ফেরায় বেনফিকা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান ৩–১ হলে চাপে পড়ে রিয়াল। এমবাপ্পে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমালেও শেষ নাটকীয়তা অপেক্ষা করছিল ইনজুরি টাইমে।

স্কোরলাইন তখন ৩–২—এই ফল থাকলে সরাসরি শেষ ষোলোয় যেত রিয়াল। কিন্তু শেষ মিনিটে ফ্রি–কিক থেকে গোলরক্ষক আনাতলি ত্রুবিনের হেডে বেনফিকার চতুর্থ গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই মুহূর্তই দুই দলের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

ইউরোপীয় মঞ্চে মুখোমুখি: পরিসংখ্যান

ইতিহাসে মুখোমুখি লড়াইয়ে বেনফিকা এগিয়ে। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় চারবারের দেখায় তিনবার জয় পেয়েছে তারা।

বছর/মৌসুমপ্রতিযোগিতাভেন্যুফলাফল
১৯৬২ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনালআমস্টারডামবেনফিকা ৫–৩ রিয়াল
১৯৬৪–৬৫কোয়ার্টার ফাইনাল (১ম লেগ)লিসবনবেনফিকা ৫–১ রিয়াল
১৯৬৪–৬৫কোয়ার্টার ফাইনাল (২য় লেগ)মাদ্রিদরিয়াল ২–১ বেনফিকা
সাম্প্রতিক লিগ পর্বচ্যাম্পিয়নস লিগলিসবনবেনফিকা ৪–২ রিয়াল

পরিসংখ্যান বলছে বেনফিকার জয় তিনটি, রিয়ালের একটি। তবে ইতিহাস সব সময় বর্তমানের নিশ্চয়তা দেয় না। রিয়াল ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবগুলোর একটি; নকআউট পর্বে তাদের অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তা আলাদা মাত্রা যোগ করে।

বেনফিকা শিবিরে সতর্ক আশাবাদ। কোচ হোসে মরিনিও মন্তব্য করেছেন, “আহত রাজা সব সময়ই বিপজ্জনক।” অর্থাৎ লিগ পর্বের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া থাকবে রিয়াল। অন্যদিকে রিয়ালের জন্য এটি মর্যাদার লড়াই—ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে নিজেদের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ।

একই রাতে ফ্রেঞ্চ ডার্বি

একই সময়ে আরেকটি আকর্ষণীয় ম্যাচে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হচ্ছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই = এএস মোনাকো। ঘরোয়া লিগে দুই দলের দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ইউরোপের মঞ্চে এটাই প্রথম দ্বৈরথ।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫০ ম্যাচে পিএসজির জয় ২৩টি, মোনাকোর ১৩টি, ড্র ১৪টি। কাগজে–কলমে পিএসজি এগিয়ে থাকলেও ডার্বির উত্তাপ অনেক সময় পরিসংখ্যানকে অকার্যকর করে দেয়।

সব মিলিয়ে আজকের রাত ইউরোপীয় ফুটবলে এক বিশেষ অধ্যায় রচনার অপেক্ষায়। ইতিহাস, প্রতিশোধ, গৌরব—সবকিছু মিলিয়ে রিয়াল–বেনফিকা দ্বৈরথ নিছক আরেকটি ম্যাচ নয়; এটি নিয়তির পুনরাবৃত্তি, যেখানে অতীতের স্মৃতি ও বর্তমানের আকাঙ্ক্ষা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।