নিজ গাড়ি ভাড়ায় বিতর্কে বাসস কর্মকর্তা

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদকে ঘিরে ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি আর্থিক লেনদেন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি নিজের মালিকানাধীন একটি গাড়ি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে একই প্রতিষ্ঠানে ভাড়ায় সরবরাহ করেন এবং সেখান থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন।

প্রাপ্ত নথিপত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর সংস্থার পক্ষ থেকে একটি গাড়ি ভাড়ার জন্য কার্যাদেশ জারি করা হয়। এতে ‘রেন্ট-এ-কার সার্ভিস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গাড়ি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। চুক্তিতে ১৬টি শর্ত যুক্ত করে বলা হয়, ১ ডিসেম্বর থেকে প্রধান সম্পাদকের দাপ্তরিক কাজে সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য গাড়িটি সরবরাহ করতে হবে। পরবর্তীতে টয়োটা ব্র্যান্ডের এলিয়ন মডেলের একটি গাড়ি সরবরাহ করা হয়, যার মালিক হিসেবে মাহবুব মোর্শেদের নাম নিবন্ধিত ছিল।

চুক্তি অনুযায়ী মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যার মধ্যে জ্বালানি, চালক ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৩ লাখ টাকা ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। একই সময়ে ওই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি গাড়িও বাসসে ব্যবহৃত হচ্ছিল, যার ভাড়া ছিল তুলনামূলকভাবে কম—মাসিক ৭০ হাজার টাকা।

নিচে সংশ্লিষ্ট ভাড়ার তথ্য উপস্থাপন করা হলো:

গাড়ির ধরনমাসিক ভাড়া (টাকা)দুই মাসে মোট (টাকা)
মাহবুব মোর্শেদের গাড়ি১,৫০,০০০৩,০০,০০০
অন্য গাড়ি৭০,০০০১,৪০,০০০

রেন্ট-এ-কার সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল কাদের মীনা জানিয়েছেন, তিনি কেবল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন এবং ভাড়ার অর্থের কোনো অংশ নিজের কাছে রাখেননি। তার দাবি, বিল তার প্রতিষ্ঠানের নামে হলেও পুরো অর্থ মাহবুব মোর্শেদ গ্রহণ করেছেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে মাহবুব মোর্শেদকে দুই বছরের জন্য সংস্থাটির শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকার পরিবর্তনের পর সংস্থার অভ্যন্তরে কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে তিনি অফিস ত্যাগ করেন এবং আর দায়িত্বে ফিরে আসেননি। পরবর্তীতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন।

এ ঘটনার পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিলেও এর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেদনে কিছু অনিয়মের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট দায় নির্ধারণের জন্য আরও গভীর তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।

সবশেষে চলতি বছরের ১ এপ্রিল সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে ব্যক্তিগত সম্পদের ব্যবহার নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে জনমনে বিভ্রান্তি ও আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে।