সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের লামাগ্রাম এলাকায় বসবাসকারী ৩২ বছর বয়সী যুবক সাদ্দাম হোসেন নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ভারতীয় অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছে পরিবার। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এ পর্যন্ত কোনও নিশ্চিত তথ্য বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাননি। তারা ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করছেন।
পরিবারের বরাতে ঘটনার বিবরণ
পরিবারের দাবি, ১ এপ্রিল সাদ্দাম হোসেন আরও তিনজনের সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেন। এই চারজনের মধ্যে একজন আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। এ ব্যক্তির নাম আবু বক্কর, যিনি শুক্রবার রাতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাদ্দামের নিখোঁজ ও আহত হওয়ার খবর জানান।
সাদ্দামের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, সাদ্দাম বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার মোবাইল ফোন সঙ্গে নেননি। প্রথমে পরিবার মনে করেছিল তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে গেছেন। পরে জানা যায়, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। নিজামের বরাতে, “শুনেছি, আমার ভাইয়ের কোমর ও পায়ে গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।”
পরিবার অভিযোগ করেছেন, সাদ্দামের সঙ্গে থাকা আবু বক্করের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিএসএফের উপস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। শনিবার দুপুরে নিজাম উদ্দিন কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ তাকে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেয়।
সরকারি ও বিজিবি সূত্রে প্রতিক্রিয়া
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. সফিকুল ইসলাম খান বলেন, ভারতীয় সীমান্তে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজন বাংলাদেশির নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি বিজিবির সহায়তায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিলেট বিজিবি-৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর বিজিবি বিষয়টি যাচাই করছে। তিনি বলেন, “আমরা বিএসএফকে জানিয়েছি, তাদের সীমান্ত এলাকায় কোনো মরদেহ পাওয়া গেছে কি না। তবে তারা এমন কোনো তথ্য দেয়নি।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, বিজিবি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে এবং স্থানীয়দের অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করার বিষয়ে সচেতন করছে।
ঘটনাক্রম সংক্ষেপ
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| নিখোঁজ ব্যক্তি | সাদ্দাম হোসেন, ৩২ বছর |
| ঠিকানা | লামাগ্রাম, উত্তর রণিখাই, কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট |
| নিখোঁজ হওয়ার তারিখ | ১ এপ্রিল ২০২৬ |
| সঙ্গে যাওয়া ব্যক্তি | ৩ জন (আবু বক্কর সহ) |
| মৃতের দাবি | ভারতের সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু |
| পুলিশ/বিজিবি প্রতিক্রিয়া | আনুষ্ঠানিক যাচাই চলমান, বিএসএফ-এ তথ্য যাচাই |
উল্লেখ্য, বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং স্থানীয় জনগণকে সীমান্ত অতিক্রম থেকে বিরত রাখার জন্য সতর্ক করেছে। ঘটনা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি এবং পরিবার ও প্রশাসনের নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
এভাবে, নিখোঁজ যুবকের মৃত্যুর ঘটনা এখনও নির্দিষ্ট তথ্য বা নিশ্চিত প্রমাণের অপেক্ষায়।
