বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক নারী আম্পায়ার সথিরা জাকির জেসি ২০২৬ সালের নারী টি২০ বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি গত বছর ভারতের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে আম্পায়ার হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং এবার ইংল্যান্ডে ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে তার অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নারী ক্রিকেট দলগুলো এই আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
জেসির এই মনোনয়ন বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। বিসিবির উম্পায়ার বিভাগের একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, “জাতীয় দলের পাশাপাশি একজন আম্পায়ারকে বিশ্বকাপে দেখার সুযোগ পাওয়াটা আমাদের জন্য গর্বের। জেসি ইতোমধ্যেই বড় আসরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং তার দক্ষতা অত্যন্ত উন্নত। আমরা আশা করি তিনি টি২০ বিশ্বকাপে আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।”
জেসি একজন আইসিসি স্বীকৃত আন্তর্জাতিক আম্পায়ার। ২০২৫ সালের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি মোট আটটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন, যার মধ্যে চারটি অন-ফিল্ড, দুটি টেলিভিশন এবং দুটি চতুর্থ আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিল। এই টি২০ বিশ্বকাপে তিনি আরও অন-ফিল্ড অভিজ্ঞতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও দৃঢ় করার পরিকল্পনা করছেন।
জেসি বলেন, “বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য বড় সম্মান। ধারাবাহিকভাবে দুটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আমার জন্য গর্বের বিষয়। ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে অন্যান্য নারী আম্পায়ারদেরও সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। আইসিসি নারী এলিট উম্পায়ার প্যানেল গঠনের পরিকল্পনা করছে, আর এই ধরনের টুর্নামেন্টে ভালো করলে আমি সেই প্যানেলের জন্য যোগ্য হতে পারি।”
টুর্নামেন্টে দুটি গ্রুপে ছয়টি করে দল অংশগ্রহণ করবে:
| গ্রুপ এ | গ্রুপ বি |
|---|---|
| বাংলাদেশ | ওয়েস্ট ইন্ডিজ |
| ভারত | ইংল্যান্ড |
| পাকিস্তান | নিউজিল্যান্ড |
| অস্ট্রেলিয়া | শ্রীলঙ্কা |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | আয়ারল্যান্ড |
| নেদারল্যান্ডস | স্কটল্যান্ড |
গ্রুপ এ-তে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নেদারল্যান্ডস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। গ্রুপ বি-তে থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ড।
জেসির মনোনয়ন কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট আম্পায়ারদের জন্য নতুন উদ্দীপনার উৎস। এটি প্রমাণ করে যে নারীরাও আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট প্রশাসন ও দায়িত্বে নেতৃত্ব দিতে পারে। তার অংশগ্রহণ স্থানীয় যুবক ও যুবতী আম্পায়ারদের জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নারীর অবদানকে আরও দৃঢ় করবে।
এছাড়া, জেসির অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপের বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শেষমেষ বলা যায়, জেসির মনোনয়ন নারীর ক্রিকেটে উদ্ভাবনী দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতীক। এটি আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করবে এবং আগামী বছরগুলোতে আরও নারী আন্তর্জাতিক ম্যাচে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবে।
