নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলায় সেঞ্চুরি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও বোনাস দাবি করে সড়ক অবরোধ করেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ১১:৩০ পর্যন্ত গাবতলী পুলিশ লাইন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, যেটি সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য দারুণ দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন যে, কারখানা কর্তৃপক্ষ গত দুই মাস ধরে তাদের বেতন ও ওভারটাইমের টাকা পরিশোধ করেনি। সোমবার বেতন প্রদানের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অসহায় শ্রমিকরা একাধিকবার মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সড়কে নেমে বিক্ষোভে অংশ নেন।
কারখানার কাটিংম্যান আব্দুল খালেক বলেন,
“দুই মাস ধরে আমাদের বেতন এবং ওভারটাইমের টাকা দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে আমরা সড়কে নেমেছি। বকেয়া পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করেন। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দেওয়ায় সকাল ১১:৩০টার দিকে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ ও সময় | ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১০টা থেকে ১১:৩০ পর্যন্ত |
| স্থান | গাবতলী পুলিশ লাইন, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ |
| সংশ্লিষ্ট কারখানা | সেঞ্চুরি গার্মেন্টস |
| দাবিসমূহ | দুই মাসের বেতন, ওভারটাইম এবং বোনাস পরিশোধ |
| আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী | শ্রমিকরা, প্রধানত কাটিং ও মেশিন অপারেটর |
| পুলিশ পদক্ষেপ | পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও র্যাবের আলোচনা ও সমাধান |
| অবরোধের পরিণতি | যান চলাচল স্বাভাবিক, বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস |
শ্রমিক আন্দোলনের এই ঘটনা পুনরায় মনোযোগ আকর্ষণ করেছে দেশের পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের অধিকার এবং বেতন-বোনাস সংক্রান্ত বৈষম্যের দিকে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, নিয়মিত বেতন পরিশোধ ও শ্রমিকদের সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের কর্মবিরতি বা শিল্প আন্দোলনের সৃষ্টি হতে পারে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের অধিকার আদায় করতে চাই। তবে আমাদের দাবি না মানা হলে ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের সম্ভাবনা থাকবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদেরও অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা ছিল, যা প্রমাণ করে যে শ্রমিকদের সমস্যার দ্রুত সমাধান শুধু তাঁদের কল্যাণ নয়, স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও অপরিহার্য।
