নারায়ণগঞ্জ শহরে বাস টিকিটের নির্ধারিত মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয় দুইটি টিকিট কাউন্টারকে জরিমানা করেছে। এই পদক্ষেপ জনসাধারণকে অতিরিক্ত খরচের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে এই অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বণিক। অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনের উপপরিদর্শক কালাম নেতৃত্বে একটি সহযোগী টিম অংশগ্রহণ করে।
অভিযানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নিম্নলিখিত টিকিট কাউন্টারগুলোকে জরিমানা করা হয়েছে:
| কাউন্টারের নাম | অবস্থান | আরোপিত জরিমানা (টাকা) | অপরাধের ধরণ |
|---|---|---|---|
| গোল্ডেন লাইন | চাষাঢ়া | ৫,০০০ | অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা |
| ডলফিন এক্সপ্রেস | খানপুর | ২,০০০ | অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা |
সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বণিক জানান, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছি যে, অনেক যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই নির্ধারিত ভাড়া মানা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনগণের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। যাত্রীদের যাতে কোনো ধরনের শোষণ না হয় এবং সব কাউন্টারে সঠিক মূল্যের তথ্য প্রদর্শিত থাকে, সেই বিষয়টি আমরা নিয়মিতভাবে মনিটর করি।”
নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাস কাউন্টার এলাকায় নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা হয় এবং কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সচেতন করা হয়। অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, গত বছর জেলার ১৫টি বাস কাউন্টারকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য জরিমানা করা হয়েছিল।
ভোক্তাদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে যে, যাত্রাপথের শুরুতে সবসময় ভাড়া তালিকা পরীক্ষা করা এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম দেখা দিলে সরাসরি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হেল্পলাইন বা স্থানীয় কার্যালয়ে জানানো।
এভাবে সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষিত হচ্ছে এবং সাধারণ যাত্রীদের অতিরিক্ত অর্থ হারানো থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সকল বাস কাউন্টারকে স্বচ্ছ ও নির্ধারিত মূল্যের মান বজায় রাখতে বাধ্য করা যায়।
এ অভিযান থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংস্থা ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করলে শহরের যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব এবং কাউন্টারের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা কমানো সম্ভব।
