চেন্নাইয়ের এম.এ. চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে নামিবিয়াকে ৩১ রানে পরাজিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের ‘এ’ গ্রুপ থেকে সুপার এইটে ওঠার সমীকরণটি নিজেদের অনুকূলে রাখল আমেরিকানরা। অন্যদিকে, টানা তিন হারে টুর্নামেন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিতে হলো আফ্রিকার দেশ নামিবিয়াকে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে মূলত নামিবিয়ার ইনিংসের মাঝপথে টানা ৩০ বলের ‘বাউন্ডারি খরা’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিং তাণ্ডব ও কৃষ্ণমূর্তির ঝড়
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা যুক্তরাষ্ট্রের শুরুটা ছিল বেশ ইতিবাচক। ওপেনার জাহাঙ্গীর ও অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেলের ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে তারা। মোনাঙ্ক প্যাটেল দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৫২ রান করে আউট হলেও মিডল অর্ডারে তাণ্ডব চালান সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি। মাত্র ৩৩ বলে ৬৮ রানের এক বিধ্বংসী ও অপরাজিত ইনিংস খেলে তিনি দলকে ২০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে দেন। তাঁর এই ইনিংসে ছিল চার ও ছক্কার ফুলঝুরি, যা নামিবিয়ার বোলারদের দিশেহারা করে দেয়। মিলিন্দ কুমারের অপরাজিত ২৮ রান শেষদিকে দলকে ১৯৯ রানের বিশাল পুঁজি এনে দিতে সাহায্য করে।
টেবিল ১: যুক্তরাষ্ট্রের ইনিংসের সংক্ষিপ্ত চিত্র
| ব্যাটসম্যান | রান | বল | চার/ছয় | স্ট্রাইক রেট |
| সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি | ৬৮* | ৩৩ | ৫/৪ | ২০৬.০৬ |
| মোনাঙ্ক প্যাটেল | ৫২ | ৩৭ | ৪/১ | ১৪০.৫৪ |
| মিলিন্দ কুমার | ২৮* | ১৮ | ২/১ | ১৫৫.৫৫ |
| জাহাঙ্গীর | ২২ | ১৫ | ৩/০ | ১৪৬.৬৬ |
নামিবিয়ার লড়াই ও ছন্দপতন
২০০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নামিবিয়া শুরুতেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে। ওপেনার স্টিনক্যাম্প এবং লফটি-ইটন পাওয়ারপ্লে-র সুবিধা কাজে লাগিয়ে ১০ ওভারেই ৯৭ রান তুলে ফেলেছিলেন। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল নামিবিয়া হয়তো ম্যাচটি জিতে নেবে। কিন্তু ১১তম ওভার থেকে খেলার চিত্র বদলে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বোলাররা লাইন ও লেংথ বজায় রেখে বোলিং শুরু করলে নামিবিয়ার ব্যাটাররা বাউন্ডারি মারতে হিমশিম খান। টানা ৫ ওভার অর্থাৎ ৩০টি বল কোনো বাউন্ডারি না পাওয়ায় প্রয়োজনীয় রানের গতি আকাশচুম্বী হয়ে যায়। শেষদিকে স্মিট ৩১ রান করলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।
টেবিল ২: নামিবিয়ার ইনিংসের সংক্ষিপ্ত চিত্র
| ব্যাটসম্যান | রান | বল | বোলার | উইকেট পতন |
| স্টিনক্যাম্প | ৫৮ | ৪০ | শালকভিক | ৩/১০৫ |
| স্মিট | ৩১ | ২০ | নেত্রবলকার | ৬/১৫৫ |
| লফটি-ইটন | ২৮ | ২২ | রঞ্জনে | ২/৯৫ |
| ফ্রাইলিঙ্ক | ১৯ | ১৮ | আলী | ৫/১৪২ |
বোলিং বিশ্লেষণ ও ফলাফল
যুক্তরাষ্ট্রের বোলারদের মধ্যে শালকভিক ৩০ রানে ২ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন। তবে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন রঞ্জনে, যিনি মাত্র ৬ রান দিয়ে ১টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। নামিবিয়ার পক্ষে মাইবার্গ ও এরাসমাস ২টি করে উইকেট নিলেও অতিরিক্ত রান খরচ করায় যুক্তরাষ্ট্র বড় লক্ষ্য দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। ৩১ রানের এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে, কারণ এটি তাদের বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকার লড়াইয়ে অক্সিজেন জোগাল।
ম্যাচ হাইলাইটস:
যুক্তরাষ্ট্রের সংগ্রহ: ২০ ওভারে ১৯৯/৪
নামিবিয়ার সংগ্রহ: ২০ ওভারে ১৬৮/৬
ফলাফল: যুক্তরাষ্ট্র ৩১ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি (যুক্তরাষ্ট্র)।
