নাটোরে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন, বৃদ্ধার মৃত্যু

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বুধবার রাতে সংঘটিত একটি ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতির এক নেতা নিহত হয়েছেন এবং প্রতিশোধমূলক অগ্নিকাণ্ডে এক বৃদ্ধা নারী প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে রাত প্রায় ১১টায় কুমারপাড়া, কদমটোলা এলাকায়, কলম ইউনিয়নের সীমান্তে।

নিহত রেজাউল করিম (৫৩) ছিলেন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি জাগতিক পার্টির (জাতীয় পার্টি) সক্রিয় নেতা ও আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল কাউন্সিল, নাটোরের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া করিম বিলহলাটি ক্রীমোহানী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রেজাউল করিম রাতের খাবারের পর বাড়ির পাশে হাঁটতে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালিয়ে গলার ন্যাড়া কাটেন এবং পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে দ্রুত নাটোর মডার্ন সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান।

ঘটনার জের ধরে স্থানীয়রা প্রতিশোধ হিসেবে আবদুল ওহাবের বাড়ি ও দোকান অগ্নিসংযোগ করেন। আবদুল ওহাব হলেন সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুন্সীর ভাতিজা। অগ্নিকাণ্ডে আলাউদ্দিন মুন্সীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী সাবিহা বেগম (৭৫) নিহত হন এবং সম্পূর্ণ সম্পত্তি ধ্বংস হয়ে যায়।

পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় রাজনীতিকরা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। রেজাউল করিমের ভাতিজা ও কলম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হায়দার রশীদ অভিযোগ করেছেন, করিমের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দলের নেতারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক। তিনি আবদুল করিমকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যিনি আগে কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত এবং এখনও পলাতক।

সিংড়া বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হোসেন হত্যাকাণ্ডকে “নির্দিষ্ট স্থানীয় অপরাধীদের কর্মকাণ্ড” হিসেবে নিন্দা জানিয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পদক্ষেপের দাবি করেছেন। বিএনপি এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সিংড়া বাস স্ট্যান্ডে গণ সমাবেশ আয়োজন করবে।

সিংড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দু’জনেরই ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। রেজাউল করিমের গলা ও মুখে মারাত্মক আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও অনুসন্ধানাধীন।

নাটোরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যাপ্ত পাহারা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানাচ্ছে, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

ঘটনা ধরনভুক্তভোগীর নামবয়সপদ/ভূমিকাঅবস্থান ও সময়মন্তব্য
হত্যারেজাউল করিম৫৩জাতীয় পার্টি নেতা, সহ-সভাপতি, সহকারী অধ্যাপককলম ইউনিয়ন, কুমারপাড়া, রাত ১১টাগলা কেটে হত্যা; ময়নাতদন্ত চলছে
অগ্নিকাণ্ডসাবিহা বেগম৭৫সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক স্ত্রীআবদুল ওহাবের বাড়ি ও দোকানসম্পূর্ণ সম্পত্তি ধ্বংস; তদন্ত চলছে

এই ঘটনায় নাটোরে রাজনৈতিক সহিংসতা ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনসাধারণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।