নাজিম উদ্দিন । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

নাজিম উদ্দিন বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রথম জাতীয় সংসদের (১৯৭৩–১৯৭৫) ময়মনসিংহ-১১ আসনের সংসদ-সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

নাজিম উদ্দিন । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

জন্ম ও শৈশব

নাজিম উদ্দিন ময়মনসিংহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব ও শিক্ষাজীবন সম্পর্কে বিশদ তথ্য খুব বেশি প্রকাশিত না হলেও জানা যায়, তিনি অল্প বয়স থেকেই রাজনীতি ও জনসেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবন

ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা ও মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ততা

নাজিম উদ্দিন তৎকালীন পাকিস্তান শাসনামলে বিভিন্ন বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।

  • ভাষা আন্দোলনে তিনি অংশ নেন।
  • ছয় দফা আন্দোলন, যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালির স্বাধিকারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, সেই আন্দোলনেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
  • ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবদান রাখেন এবং স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে ছিলেন।

তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ছিল মূলত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগভিত্তিক, এবং তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন।

প্রথম জাতীয় সংসদে (১৯৭৩) নির্বাচন

১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাজিম উদ্দিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-১১ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
এই সংসদই স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার, যেখানে জাতি-গঠন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করা হয়।

সংসদ সদস্য হিসেবে নাজিম উদ্দিন স্থানীয় উন্নয়ন, কৃষি ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন বলে জানা যায়।

রাজনীতি: ধারণা ও প্রেক্ষাপট

রাজনীতি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে ক্ষমতার ব্যবহার, নীতি-নির্ধারণ, সম্পদের বণ্টন ও সামাজিক লক্ষ্য পূরণ একসঙ্গে সম্পাদিত হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মনে করেন—
“রাজনীতি কেবল ক্ষমতা নয়, এটি সমাজকে সংগঠিত করার শিল্প”।

প্রাচীন গ্রিসের প্লেটো–এরিস্টটল থেকে শুরু করে ভারতীয় দার্শনিক চাণক্য বা চীনের কনফুসিয়াস—রাজনীতির নৈতিকতা, রাষ্ট্রচিন্তা এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাজনীতি বিশেষভাবে—

  • জাতীয়তাবাদ
  • স্বাধীনতার লক্ষ্য
  • গণতন্ত্র
  • সামাজিক ন্যায়বিচার

—এই মৌলিক মূল্যবোধগুলোতে ভিত্তি করে বিকশিত হয়েছে।

নাজিম উদ্দিনের রাজনৈতিক দর্শনও ছিল সেই ধারারই অংশ।

উত্তরাধিকার ও মূল্যায়ন

যদিও নাজিম উদ্দিন সম্পর্কে জনসাধারণের নথি অত্যন্ত সীমিত, তবুও তাঁর অবদান তিনভাবে মূল্যায়নযোগ্য—

  1. স্বাধীনতাপূর্ব গণআন্দোলনে সক্রিয়তা
  2. প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে জাতি-গঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ
  3. নিজ এলাকায় জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব

বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের মতো তিনিও স্বাধীনতার পর একটি নতুন রাষ্ট্র নির্মাণে নিজের ভূমিকা রেখে গেছেন।

নাজিম উদ্দিন ছিলেন সেই প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতা, যারা কঠিন সময়ে বাঙালির অধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। দেশজুড়ে যখন রাজনীতির উদ্দেশ্য ছিল শোষণবিরোধী সংগ্রাম, তখন তিনি নিজ এলাকায় এবং জাতীয় পরিসরে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ও স্বাধীনতার পক্ষের অবস্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য একটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

Leave a Comment