নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় প্রখ্যাত পোলট্রি ব্যবসায়ী ও স্থানীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ আজীমুল কাদের ভূঁইয়া (৪৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পথে ধাপ ফেলেছে পুলিশ। কিশোরগঞ্জ থেকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং চুরির মুরগি বিক্রির প্রায় চার লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যেই সংঘটিত হয়েছিল।
ঘটনার পটভূমি অনুযায়ী, গত ২৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় আজীমুল নিজের খামারে ছিলেন। রাত ৮টার দিকে খামার থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। দুই দিন পর, ২৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে বেলাব উপজেলার বাজনাব ইউনিয়নের বীর বাঘবের গ্রামের একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত আজীমুল ছিলেন বাজনাব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বেলাব উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের ভাই আনোয়ার কাদের ভূঁইয়া বেলাব থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি দুই শ্রমিকসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করেছেন।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, আজীমুল নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ দিন আগে তার খামারে দুইজন নতুন শ্রমিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। গোপন সূত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ জানতে পারে, পলাতক দুই শ্রমিক কিশোরগঞ্জে অবস্থান করছেন। শনিবার দুপুরে ডিবির উপপরিদর্শক মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে একজন শ্রমিক এবং চুরির মুরগির ক্রেতা গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| নাম | বয়স | ঠিকানা | ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক |
|---|---|---|---|
| প্রমন তালুকদার | ২১ | নেত্রকোনা, মদন উপজেলার ফতেপুর গ্রাম | আজীমুলের খামারের শ্রমিক, ঘটনার পর পালিয়েছে |
| আবুল কালাম | ৪৫ | কিশোরগঞ্জ, কটিয়াদী কায়স্থপল্লি | চুরির মুরগির ক্রেতা |
জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কায়েস আকন্দ জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডটি খামারের মুরগি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুইজনকে বেলাব থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং রোববার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত এখনো চলমান এবং পলাতক শ্রমিককে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা এই হত্যাকাণ্ডকে নরসিংদীর পোলট্রি ব্যবসার ইতিহাসে এক শোকাবহ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খামার ও মুরগি ব্যবসায় কর্মীদের নিয়োগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করার প্রয়োজন রয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
এ ঘটনায় বেলাব ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন নিহতের পরিবারের পাশে রয়েছে।
