নরসিংদীতে ১৭ দিনে ৭ খুন, বাড়ছে জনদুর্ভীতি ও উদ্বেগ

নরসিংদীতে সাম্প্রতিক সময়ে খুনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ড এবং হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে। এক ঘটনায় মানুষের মন থেকে উদ্বেগ কাটতে না কাটতেই নতুন কোনো হত্যাকাণ্ড চাঞ্চল্য সৃষ্টি করছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ পড়ে থাকলেও প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক লাশের পরিচয় মিলেছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হলো যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছিল, সেই অস্ত্রটি মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, একটি খেলনা পিস্তল এবং ৪১ রাউন্ড গুলি।

নরসিংদীতে এত অস্ত্র কীভাবে প্রবেশ করছে এবং কেন প্রতিদিনই অস্ত্র, হামলা ও প্রকাশ্যে গোলাগুলির মতো ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে—এমন প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব ঘটনার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সচেতন মহলের বক্তব্য, বর্তমানে হত্যাকাণ্ডের কারণগুলো একাধিক। একসময় রাজনৈতিক হত্যা বা দ্বন্দ্ব কেন্দ্রিক হলেও বর্তমানে ছিনতাই, অস্ত্র-মাদক, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, ইন্টারনেট-ডিশ, বালু ব্যবসা এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ-অভিযোগ নিয়েও হত্যাকাণ্ড ঘটছে।

গত ১৭ দিনে নরসিংদীর ৬টি উপজেলায় ৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রধান হত্যাকাণ্ডের তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

তারিখস্থাননাম ও বয়সমৃত্যুর প্রেক্ষাপট
২৯ নভেম্বরআমিরগঞ্জশাহাদাৎ হোসেন (১৪)গলাকাটা, ছিনতাই উদ্দেশ্য
২ ডিসেম্বরবেলাবোআল আমিন (২৯)ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যা
২ ডিসেম্বরবেলাবোপ্রাণতোষ সরকার (৪২)বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা
৫ ডিসেম্বরবেলাবোআব্দুর রশিদ (৪০)আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার
৮ ডিসেম্বররায়পুরামামুন মিয়া (২৫)গুলি আহত, দেশে ফেরার পর নিহত
১২ ডিসেম্বরপলাশনয়ন চন্দ্র মজুমদার (২৮)বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার
১৬ ডিসেম্বরশিবপুরআব্দুল্লাহ (হাফেজ)ময়লার ড্রেন থেকে উদ্ধার, নিখোঁজের ২৪ দিন পর

নরসিংদীর সাধারণ মানুষ ও সমাজসেবকরা বলছেন, প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। নির্বাচনের প্রাক্কালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হবে।

নরসিংদী পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক জানিয়েছেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক ও উন্নতির দিকে রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ সচেতনতা ছাড়া অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।