নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন দাবি

সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী ছয় দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। আগামী ৫ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সংগঠনের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক এবং সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের মধ্যে গভীর ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, ২০১৫ সালে অষ্টম বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়, শিক্ষা খরচ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিলসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় বেতন কাঠামো হালনাগাদ না হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা–কর্মচারী আর্থিক চাপে পড়েছেন।

তারা মনে করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নবম বেতন কাঠামো দ্রুত ঘোষণা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন দুই অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছে।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দেশের প্রতিটি জেলা শহরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান। পাশাপাশি উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতবিনিময় সভা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়; বরং সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তারা আরও সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো হালনাগাদ না হলে সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। ফলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক পথে দাবি আদায়ের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

নিম্নে ঘোষিত কর্মসূচির সময়সূচি উপস্থাপন করা হলো—

তারিখকর্মসূচিস্থান
৫ এপ্রিলস্মারকলিপি প্রদানসকল জেলা শহর
৬ এপ্রিলস্মারকলিপি কার্যক্রম অব্যাহতসকল জেলা শহর
৭ এপ্রিলস্মারকলিপি ও মতবিনিময়জেলা পর্যায়
৮ এপ্রিলপ্রস্তুতিমূলক আলোচনা সভাউপজেলা ও জেলা
৯ এপ্রিলশান্তিপূর্ণ কর্মসূচিবিভাগীয় শহর
১০ এপ্রিলপ্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনাউপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় শহর

বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে কর্মচারীদের জীবনমানের ওপর চাপ বাড়ে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো জরুরি হয়ে উঠেছে।

এ অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সংগঠনটি আশা করছে, তাদের উত্থাপিত দাবি দ্রুত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে অগ্রসর হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।