সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেলের বাস্তবায়ন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি নীতিগত সমর্থন থাকলেও, চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতি বিষয়টি ধাপে ধাপে কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা বৈশ্বিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন অর্থনীতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনীতি সচেতন নীতি অনুসরণ করে ‘ধীরে চলো’ পদ্ধতিতে নবম পে স্কেল কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি চাকরিজীবীরা দ্রুত নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকরীকরণ দাবি করছেন, যাতে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর হয় এবং আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।
অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে কার্যকর করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ও পে কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে নতুন পে স্কেল ও কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা তা রাজস্ব রাজস্ব ও আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থ বিভাগের তথ্যমতে, নবম পে স্কেল প্রাথমিকভাবে আগামী অর্থবছর ২০২৬–২৭ থেকে কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে রাজস্ব ঘাটতি ইতিমধ্যেই ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি, এবং মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতি এই পরিকল্পনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
পে কমিশন ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। কমিশনের সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবসম্মত এবং নির্বাচিত সরকারের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে।
নিচের টেবিলটি নবম পে স্কেল সংক্রান্ত মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করছে:
| বিষয় | বিবরণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| কমিশন গঠন | ২১ সদস্যের বেতন কমিশন | সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান প্রধান |
| প্রতিবেদন জমা | ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য সরকারের কাছে |
| সম্ভাব্য কার্যকর সময় | অর্থবছর ২০২৬–২৭ | ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হতে পারে |
| আর্থিক পরিস্থিতি | চলতি অর্থবছরে ৬০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি | মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অস্থিরতা প্রভাবিত |
| সরকারের নীতি | ‘ধীরে চলো’ | দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল প্রয়োজন |
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল দ্রুত কার্যকর করা এখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবে পরিকল্পিত সমন্বয় ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল রয়েছে, যা সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে।
