নববর্ষ এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ইরানের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুতিনের

ইরানের নওরোজ উপলক্ষে দেশটির নেতৃত্বের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তেহরানের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি ইরানকে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ ও ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে বর্তমান সংকটকালে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে এই ঘোষণার পরও বাস্তবে মস্কোর সহায়তার মাত্রা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন উঠছে।

ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে পাঠানো বার্তায় ইরানি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরান এই কঠিন সময় ধৈর্য ও মর্যাদার সঙ্গে অতিক্রম করবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাত গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

ক্রেমলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে। পুতিন তাঁর বার্তায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডকে ‘নিষ্ঠুর’ বলে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানান।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও ইরানের সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক না কেন, তা এখনো মূলত কৌশলগত সহযোগিতার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট বা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। ফলে ইরান সরাসরি সামরিক চাপে পড়লে রাশিয়ার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত নয়।

নিম্নে দুই দেশের সম্পর্কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো—

সূচকবর্তমান অবস্থা
রাজনৈতিক সম্পর্কঘনিষ্ঠ
সামরিক সহযোগিতাসীমিত
পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাঅনুপস্থিত
জ্বালানি খাতের সহযোগিতাউল্লেখযোগ্য
পারমাণবিক ইস্যুতে রাশিয়ার অবস্থানসতর্ক

এদিকে, একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধের বিনিময়ে ইরানের সঙ্গে তথ্য বিনিময় সীমিত করার কথা বলা হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে। তবে ক্রেমলিন এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘ভুয়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় রাশিয়া ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় রাশিয়ার অর্থনীতি কিছুটা সুবিধাও পাচ্ছে। তবে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা রাশিয়ার জন্যও ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, পুতিনের সংহতির বার্তা কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে তা কতটা কার্যকর সহায়তায় রূপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে ইরান-রাশিয়া সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।