নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্মরণীয় করে রাখতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক সুসংহত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বের ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

আমন্ত্রিত রাষ্ট্রসমূহ ও কূটনৈতিক তৎপরতা

শনিবার রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করা বিএনপির নীতিনির্ধারকদলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পরেই এই আমন্ত্রণ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তালিকায় দক্ষিণ এশিয়া এবং মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর পাশাপাশি পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নিচে আমন্ত্রিত ১৩টি দেশের তালিকা ও আঞ্চলিক অবস্থান দেওয়া হলো:

ক্রমিকআমন্ত্রিত দেশআঞ্চলিক অবস্থানকূটনৈতিক গুরুত্ব
চীনপূর্ব এশিয়াকৌশলগত উন্নয়ন সহযোগী
ভারতদক্ষিণ এশিয়ানিকটতম প্রতিবেশী ও বাণিজ্যিক বন্ধু
পাকিস্তানদক্ষিণ এশিয়াআঞ্চলিক সম্প্রীতি ও বাণিজ্য
সৌদি আরবমধ্যপ্রাচ্যপ্রধান শ্রমবাজার ও ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ব
তুরস্কইউরেশিয়াপ্রযুক্তি ও সামরিক সহযোগিতা
মালয়েশিয়াদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানি
সংযুক্ত আরব আমিরাতমধ্যপ্রাচ্যদ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স
কাতারমধ্যপ্রাচ্যজ্বালানি নিরাপত্তা ও ভ্রাতৃত্ব
শ্রীলঙ্কাদক্ষিণ এশিয়াসার্কভুক্ত উন্নয়ন অংশীদার
১০নেপালদক্ষিণ এশিয়াকানেক্টিভিটি ও জলবিদ্যুৎ
১১মালদ্বীপদক্ষিণ এশিয়াপর্যটন ও আঞ্চলিক রাজনীতি
১২ভুটানদক্ষিণ এশিয়াপরিবেশ ও বাণিজ্য
১৩ব্রুনেইদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াদ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা

শপথ অনুষ্ঠানের রূপরেখা ও প্রস্তুতি

নির্বাচন পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার সকালে প্রথমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। এরপর বিকেলের মূল আকর্ষণ হিসেবে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার শপথ। প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের বাইরে আয়োজিত এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।

রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে এক বিশাল ম্যান্ডেট অর্জন করেছে। ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী এই প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। নতুন সরকারের এই শপথ অনুষ্ঠানে ১৩টি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বৈধতা এবং মর্যাদা প্রদান করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিজয়ী দল বিএনপি যৌথভাবে এই আয়োজনকে একটি ‘জাতীয় উৎসব’ হিসেবে উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। দক্ষিণ প্লাজার আলোকসজ্জা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ শুরু করেছে।