রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী মো. নুরুজ্জামান আহমেদ (৭০)-কে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, আন্দোলন চলাকালীন ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানার শনির আখড়া গোবিন্দপুর বাজারসংলগ্ন আন্ডারপাস সেতুর নিচে জুবাইদ ইসলাম নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে মো. নুরুজ্জামান আহমেদকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
গ্রেফতার দেখানোর আবেদনে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় ও স্থানে সংঘটিত সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে মামলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আদালত পুলিশের আবেদন বিবেচনা করে তাকে ওই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।
এর আগে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকারের পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রংপুর নগরের জুম্মাপাড়া পোস্ট অফিস সংলগ্ন গলিতে তাঁর ছোট ভাই ওয়াহেদুজ্জামানের বাসা থেকে মো. নুরুজ্জামান আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সময় থেকেই তিনি কারাগারে আটক আছেন।
এই মামলাটি যাত্রাবাড়ী থানায় চলমান তদন্তাধীন একটি হত্যা মামলা, যেখানে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে তদন্তসূত্রে জানা গেছে। আদালতের সর্বশেষ আদেশের ফলে তিনি উক্ত মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হলেন, যা পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবে।
মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আসামির নাম | মো. নুরুজ্জামান আহমেদ (৭০) |
| পদবি | সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী |
| মামলা | যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলা |
| ঘটনার তারিখ | ২০ জুলাই ২০২৪ |
| ঘটনার স্থান | শনির আখড়া, গোবিন্দপুর বাজার সংলগ্ন আন্ডারপাস |
| নিহত ব্যক্তি | জুবাইদ ইসলাম |
| গ্রেফতার তারিখ | ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (রাত) |
| আদালতের আদেশ | গ্রেফতার দেখানো হয়েছে |
| আদালত | ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত |
এই আদেশের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় তার অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো এবং তদন্ত কার্যক্রমের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা আদালতের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
