নতুন মন্ত্রিসভা: ৩৭–৪০ সদস্যের সম্ভাব্য তালিকা

আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ.এম.এম. নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন সংসদ শপথ কক্ষে। এরপরে দুপুরের দিকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।

একই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৩৫–৪০ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন, যেখানে ২৬–২৭ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১০–১২ জন প্রতিমন্ত্রী থাকবেন। শেষ মুহূর্তে এক বা দুইজন অতিরিক্ত সদস্য যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক রিহার্সালের তথ্য অনুযায়ী চূড়ান্ত মন্ত্রিসভায় ৩৭–৪০ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

সোমবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা শপথ গ্রহণের চূড়ান্ত রিহার্সাল সম্পন্ন করেন। প্রায় ৪০টি পদ তৈরি করা হয়েছে শপথপত্র পরিবেশনের জন্য, যা সংবিধিবদ্ধ এবং সুচিন্তিত পরিকল্পনার পরিচায়ক। তবে, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো কঠোর গোপনীয়তার আড়ালে রয়েছে।

নীচের টেবিলে দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সম্ভাব্য পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর তালিকা উপস্থাপন করা হলো:

সম্ভাব্য মন্ত্রী / প্রতিমন্ত্রীবিশেষ দায়িত্ব / দিকনির্দেশনা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসিনিয়র নেতা
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনগুরুত্বপূর্ণ দলীয় দায়িত্ব
সালাহউদ্দিন আহমদস্থায়ী কমিটির সদস্য
মির্জা আব্বাসঅভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরাজনৈতিক বিশ্লেষক
গায়েশ্বর চন্দ্র রায়নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি
ড. আবদুল মঈন খানশিক্ষা খাতের বিশেষজ্ঞ
ড. এ. জে. এম. জাহিদ হোসেনস্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান
নজরুল ইসলাম খানপ্রশাসনিক অভিজ্ঞতা
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুনিরাপত্তা বিষয়ক
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদবর্ষীয়ান সক্রিয় নেতা
ফজলুর রহমানজনসংযোগ ও কৌশল
আলতাফ হোসেন চৌধুরীঅর্থনীতি ও পরিকল্পনা
আবদুল আওয়াল মিন্টুআইন ও নীতি
এহসানুল হক মিলানউদীয়মান নেতা
নিতাই রায় চৌধুরীপ্রশাসন
আফরোজা খান রিতানারীর ক্ষমতায়ন
জহির উদ্দিন স্বপনযোগাযোগ বিষয়ক
রুহুল কবির রিজভী আহমেদগবেষণা ও বিশ্লেষণ
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানিরাজনীতি ও কৌশল

সূত্র বলছে, প্রযুক্তিবিদ ও উদীয়মান নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে, যাতে দক্ষতা ও নবজোশের সুষমা বজায় থাকে। স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “যারা জোটবিরোধী শাসনকে প্রতিহত করেছেন এবং জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন, তাদের সুযোগ দেওয়া হবে। মন্ত্রিসভা অভিজ্ঞ ও নতুন নেতৃত্বের সংমিশ্রণ হবে।”

প্রস্তুতি ও রিহার্সাল নির্দেশ করছে যে, নতুন মন্ত্রিসভা অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে নতুন প্রজন্মের সাথে মিলিয়ে গঠিত হবে, যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মোটামুটি ৩৭–৪০ সদস্যের এই মন্ত্রিসভা আগামী সরকারের জন্য কার্যকর নেতৃত্ব এবং উদ্ভাবনী চিন্তাধারার সমন্বয় ঘটাবে।