নতুন ব্রিজে পুলিশের ছদ্মবেশে ছিনতাই

চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানাধীন নতুন ব্রিজ এলাকায় পুলিশের ছদ্মবেশে তিন মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬৬,০০০ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় পাশেই স্থানীয় পুলিশের টহল গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা হলেন মুনির, ইউছুফ ও হৃদয়, যারা নিয়মিত ফিশারিঘাট এলাকায় মাছ বিক্রি করেন। মুনির জানান, বুধবার বিক্রির পর বাসায় ফেরার পথে মান্নান টাওয়ারের কাছে এশিয়া ব্যাংকের সামনে একজন ব্যক্তি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের তল্লাশি শুরু করে এবং নগদ অর্থ হাতিয়ে নেন।

“আমরা তিনজনই প্রতিদিনের মতো মাছ বিক্রি শেষে বাড়ি ফেরছিলাম। একজন পুলিশ পরিচয় দিয়ে আমাদের তল্লাশি শুরু করে এবং ৬৬,০০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। আশ্চর্যজনকভাবে পাশেই পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল, কেউ কিছু করেনি।” – মুনির

স্থানীয় টহল পুলিশ সহকারী উপ-পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি আদালতে আসামি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, তাই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সরাসরি জড়িততা নেই।

তিন ব্যবসায়ী জানান, তারা বাকলিয়া থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক জেসমিন জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা থানায় এসেছিলেন, কিন্তু কী বিষয়ে এসেছেন তা স্পষ্টভাবে জানায়নি; কেবল ওসি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগের আশ্বাস পেয়েছিলেন।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলাইমানের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তার ফোন রিসিভ না করায় আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নেওয়া যায়নি।

ঘটনার সারসংক্ষেপ

বিষয়বিবরণ
স্থাননতুন ব্রিজ, বাকলিয়া থানা, চট্টগ্রাম
সময়৫ মার্চ ২০২৬, বিক্রির পর
ভুক্তভোগীমুনির, ইউছুফ, হৃদয় (ফিশারিঘাট ব্যবসায়ী)
চুরি হওয়া অর্থ৬৬,০০০ টাকা
অভিযুক্তএক ব্যক্তি, পুলিশ পরিচয় ধারণ
পুলিশ প্রতিক্রিয়াটহল গাড়ি উপস্থিত, সহকারী উপ-পরিদর্শক ছিলেন অনুপস্থিত
থানার কার্যক্রমভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে গেলে সহায়তা সীমিত

সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ

এই ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারেন।

মামলার আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ, অভিযোগ দায়ের ও তদন্তের অগ্রগতি এখনও জানা যায়নি। তবে এই ঘটনায় চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকা সামাজিক ও নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব বহন করছে, এবং প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান স্থানীয়রা।

এমন ঘটনায় ব্যবসায়ীদের আস্থা পুনঃস্থাপন এবং পুলিশের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।