বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি বীমা জরিপকারী ও ক্ষতি নির্ধারকদের কর্তব্য, দায়িত্ব এবং পেশাগত আচরণের উপর একটি নতুন বিধিমালা প্রকাশ করেছে। মূলত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এর সাধারণ কপি ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করেছে। নতুন বিধিমালার নাম “বীমা জরিপকারী ও ক্ষতি নির্ধারকের কর্তব্য, দায়িত্ব ও আচরণবিধি বিধিমালা – ২০২৫” এবং এতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার ওপর, বিশেষত অ-জীবন বীমা ক্ষেত্রে।
নতুন বিধিমালার অধীনে, বীমা জরিপকারী ও ক্ষতি নির্ধারকদের অবশ্যই সম্পত্তি বা বীমাকৃত বিষয়াদি সূক্ষ্মভাবে পরিদর্শন ও যাচাই করতে হবে, যাতে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে যথেষ্ট সময় দেওয়া যায়। জরিপকারীর দায়িত্বগুলো সংক্ষেপে নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| কার্যক্রম | প্রধান নির্দেশিকা |
|---|---|
| সম্পর্ক প্রকাশ | বীমা কোম্পানি বা নীতিধারীর সঙ্গে যে কোনো পারিবারিক বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক সরকারি নথিতে জানাতে হবে। |
| গোপনীয়তা | নীতিধারী ও দাবিদারের তথ্য ন্যায্য ও গোপনীয়ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। |
| ক্ষতি নির্ধারণ | বীমা নীতির শর্ত অনুযায়ী ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। |
| পুনঃপরিদর্শন | প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পত্তির একাধিক পরিদর্শন করা যেতে পারে। |
| সহ-বীমা ও একাধিক নীতি | সহ-বীমা বা একাধিক কভারেজের ক্ষেত্রে ক্ষতি ও পুনরুদ্ধারযোগ্য সম্পদের বিবরণ রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। |
| বিশেষজ্ঞ পরামর্শ | নীতিধারীর সম্মতিতে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। |
| রেকর্ড সংরক্ষণ | জরিপ প্রতিবেদন ও সম্পর্কিত নথি অন্তত তিন বছর সংরক্ষণ করতে হবে। |
বিধিমালা পেশাগত আচরণের স্পষ্ট মানদণ্ডও নির্ধারণ করেছে। জরিপকারীদের সততা, দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রেখে পরিদর্শন সম্পন্ন করতে হবে। তারা সহকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করবেন এবং কোনো তথ্য বা নথি অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করতে পারবেন না। জাতীয় স্বার্থ প্রভাবিত করার সম্ভাব্য তথ্যের প্রকাশ অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এছাড়া, জরিপকারীদের নতুন প্রযুক্তি এবং আধুনিক পদ্ধতিতে দক্ষ হতে হবে।
আইডিআরএর মতে, ২০২৫ সালের এই বিধিমালা জাতীয় বীমা শিল্পে স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি করবে। বিশেষভাবে, অ-জীবন বীমা খাতে দাবির নিষ্পত্তি দ্রুত এবং নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে বীমা প্রতিষ্ঠান ও নীতিধারীর মধ্যে বিশ্বাস দৃঢ় করবে।
সংক্ষেপে, নতুন গেজেটটি বীমা জরিপকারী ও ক্ষতি নির্ধারকদের দায়িত্ব এবং নৈতিক আচরণের জন্য একটি সুগঠিত কাঠামো প্রদান করছে। দায়িত্বের স্পষ্টতা এবং পেশাদার মানদণ্ড প্রণয়ন করে এটি বাংলাদেশের বীমা শিল্পকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
