নতুন বাজেটে বাংলাদেশের জন্য অনুদান নির্ধারিত ৬০ কোটি

ভারতের নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশকে সহায়তা বা অনুদান বাবদ মোট ৬০ কোটি ভারতীয় রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ এখনও সবচেয়ে কম ভারতীয় অনুদান পাচ্ছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুসারে এই বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালের সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছিল ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি। এতে দেখা যাচ্ছে, নতুন প্রস্তাবিত বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে।

পূর্ববর্তী বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে (২০২৫-২৬) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে ১২০ কোটি রুপি অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে পরবর্তীকালে সংশোধিত বাজেটে এটি কমিয়ে ৩৪.৫ কোটি রুপিতে নেমে আসে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর জন্য বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য। ভারতের বাজেট নথি অনুযায়ী, এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি অনুদান পাচ্ছে ভুটান।

দেশ২০২৬-২৭ বরাদ্দ (কোটি রুপি)অনুদান (কোটি রুপি)ঋণ (কোটি রুপি)২০২৫-২৬ বরাদ্দ (কোটি রুপি)
ভুটান২,২৮৮.৫৬১,৭৬৯৫২০১,৯৫০
নেপাল৮০০৮০০৭০০
মালদ্বীপ৫৫০৫৫০৬২৫
শ্রীলঙ্কা৪০০৪০০৩০০
মিয়ানমার৩০০৩০০২০০
আফগানিস্তান১৫০১৫০১০০
বাংলাদেশ৬০৬০৩৪.৪৮

বিশ্লেষকরা মনে করেন, অনুদান নির্ধারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য অনুদান কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং ঋণ দেওয়া হচ্ছে কঠোর শর্তে। এর অংশ হিসেবে, বাংলাদেশকে বিগত এক দশকে লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় ঋণ দেওয়া হয়েছে।

১ ফেব্রুয়ারি রোববার ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ নতুন বাজেট পেশ করেন। তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৫৩.৫০ লাখ কোটি রুপির বাজেট প্রস্তাব করেন, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৭.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ভারতের অর্থবছর ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত চলে।

বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি সত্ত্বেও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর তুলনায় কম হওয়ার বিষয়টি কূটনৈতিক মহল ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে এসেছে। বিশেষ করে ভুটান ও নেপালের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, ভারতের প্রাথমিক দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও কম গুরুত্বের। তবে এই বরাদ্দ বৃদ্ধিও বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।