খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই এপ্রিল ২০২৫, ৭:৬ পিএম

পোপ ফ্রান্সিসের উত্তরসূরির জন্য অপেক্ষা করছে এক দীর্ঘ ও জটিল দায়িত্বের তালিকা। ক্যাথলিক চার্চের অভ্যন্তরে নারী ও এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের অবস্থান, যৌন নির্যাতন কেলেঙ্কারি, বিশ্বজুড়ে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক ভূমিকা এবং আধুনিক বিশ্বের নতুন চ্যালেঞ্জ—সবই সামলাতে হবে নতুন ধর্মগুরুকে।
Table of Contents
পোপ ফ্রান্সিস তার ১২ বছরের শাসনামলে উদারপন্থার কারণে রক্ষণশীলদের তোপের মুখে পড়েছিলেন। অভিবাসীদের স্বাগত জানানো, লাতিন ভাষার মেসে বিধিনিষেধ এবং সমকামী দম্পতিদের আশীর্বাদের সুযোগ দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তগুলো চার্চের দুই মেরুর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায়। নতুন পোপের জন্য রক্ষণশীল ও উদারপন্থীদের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
পাদ্রীদের যৌন নির্যাতন মোকাবিলায় ফ্রান্সিস কিছু পদক্ষেপ নিলেও, ভুক্তভোগীরা তা যথেষ্ট মনে করেননি। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো এ বিষয়ে নীরবতা বিরাজ করছে। ইউরোপের অনেক দেশেও স্বাধীন তদন্ত হয়নি। ফলে, এই সংকট এখনও চার্চের ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য বড় হুমকি।
১৪০ কোটিরও বেশি ক্যাথলিকের নেতা হিসেবে নতুন পোপকে ইউক্রেন, গাজা ও সুদানের মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে মানবিক বার্তা এবং কূটনৈতিক ভূমিকা রাখতে হবে। ইসরায়েল, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের প্রতি পোপের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ এবং চীনের সঙ্গে স্পর্শকাতর সম্পর্কও নতুন পোপের মনোযোগ দাবি করবে। বিশেষ করে চীনে ক্যাথলিক বিশপ নিয়োগ নিয়ে ভ্যাটিকানের সঙ্গে চীনা সরকারের টানাপোড়েন চলছে।
চার্চের গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের নিয়োগ বাড়লেও, নারী ডিকন নিয়োগের উদ্যোগ এখনো থমকে আছে। ভ্যাটিকান বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু ধর্মতাত্ত্বিক নয়, বরং সাংস্কৃতিক বিষয়। কারণ অঞ্চলভেদে নারীদের ভূমিকা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের সংখ্যা বাড়লেও, পাদ্রীদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পাদ্রীদের সংখ্যা ০.২ শতাংশ কমেছে। আফ্রিকা ও এশিয়ায় কিছুটা বৃদ্ধির বিপরীতে ইউরোপে ধর্মীয় উপস্থিতি কমছে। ফলে নতুন পোপের সামনে ধর্মপ্রচার ও নেতৃত্ব সংকটও বড় বিষয় হয়ে উঠবে।
পোপ ফ্রান্সিস তার সহজ-সরল জীবনধারা, সরাসরি যোগাযোগ ও সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তার কঠোরতা ও স্পষ্টভাষী মনোভাব সমালোচিত হয়েছে। নতুন পোপকেও হয়তো ‘জনগণের পোপ’ হওয়ার চাপ মোকাবিলা করতে হবে, তবে ভ্যাটিকান প্রশাসন সম্ভবত আরও রক্ষণশীল ও আনুষ্ঠানিক শৈলীর নেতাকেই এগিয়ে রাখতে চাইবে।
মন্তব্য