নতুন এমপিদের শপথ গ্রহণ শুরু সকাল ১০টায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় শপথগ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথগ্রহণ কক্ষে, এবং শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন

ইনডিপেনডেন্ট নির্বাচন কমিশন (ইসি)-এর সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠের দায়িত্ব পালন করবেন।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর জয়পরিসংখ্যান প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিম্নরূপ:

দল/প্রার্থীপ্রতীকজয়ী আসনভোট শতাংশ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)ধানের শীষ20949.97%
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীদাঁড়িপাল্লা6831.76%
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)শাপলা কলি63.05%
স্বতন্ত্র প্রার্থী7

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। যদিও ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪) ফলাফল আদালতের নির্দেশনাজনিত কারণে এখনও ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের ফলাফলই বেসরকারিভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

নির্বাচনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা তাদের সংসদে স্থিতিশীল নেতৃত্বের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামী প্রাপ্ত ভোটের হার ৩১.৭৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ছোট দলগুলোর ভোটসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

শপথগ্রহণের এই অনুষ্ঠান শুধু নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুষ্ঠু কার্যক্রম বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। নতুন সংসদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় বিধান ও আইন প্রণয়নের দিকেও নজর থাকবে।

এভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কার্যক্রমের সূচনা হচ্ছে, যেখানে নির্বাচিত এমপিরা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন দেশের আইন প্রণয়ন ও জনকল্যাণে অবদান রাখার জন্য।