নতুন অভিযোগে গ্রেপ্তার নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলে

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিটের বড় ছেলে, ২৯ বছর বয়সী মারিয়াস বোর্গ হোইবি, ছুরি দিয়ে হামলা, হুমকি এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগে পুনরায় গ্রেপ্তার হয়েছে। পুলিশ এ মামলায় তাকে চার সপ্তাহের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। হোইবির বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের বিচারও ওসলোতে চলমান, যা প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে চলবে।

ওসলো পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় হোইবিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বিবৃতিতে বলেছে, “হোইবি শারীরিক ক্ষতি, ছুরি ব্যবহার করে হুমকি প্রদান এবং আদালতের জারি করা রেস্ট্রেইনিং অর্ডার ভঙ্গের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত।” প্রসিকিউটর আন্দ্রেয়াস ক্রুশেভস্কি আরও বলেন, “পুনরায় অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা রয়েছে।”

মারিয়াস হোইবির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু অভিযোগ নিচের টেবিলে দেখা যাচ্ছে:

অভিযোগের ধরনসংখ্যাসংক্ষিপ্ত বিবরণ
ধর্ষণ মামলাবিভিন্ন সময়ে চারটি ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে
পারিবারিক সহিংসতাসাবেক সঙ্গীর উপর শারীরিক ও মানসিক হিংসার অভিযোগ
অবৈধ ভিডিও ধারণঅনির্দিষ্টনারীদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণের অভিযোগ
হুমকি ও ছুরি ব্যবহারসাম্প্রতিক ছুরি হামলার অভিযোগ
আদালতের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গআদালতের রেস্ট্রেইনিং অর্ডার লঙ্ঘন

মারিয়াস হোইবি ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎ ছেলে এবং রাজপরিবারের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। তিনি আদালতে ধর্ষণসহ গুরুতর অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তবে পুলিশ তার পুনরায় অপরাধের আশঙ্কায় চার সপ্তাহের কারাদণ্ডের জন্য আবেদন করেছে। ওসলো জেলা আদালত জানিয়েছে, ২ মার্চ পর্যন্ত হোইবিকে রিমান্ডে রাখা হবে, যতক্ষণ না নতুন সিদ্ধান্ত হয়।

হোইবির গ্রেপ্তার এমন সময় এসেছে যখন ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিট যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত নথি নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছেন। ওই নথিতে প্রায় এক হাজারবার তার নাম উল্লেখ রয়েছে। ক্রাউন প্রিন্সেস স্বীকার করেছেন যে ২০১১–২০১৪ সালে এপস্টিনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং তিনি এই জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত।

রাজপরিবারের সমালোচনা ও এপস্টিন নথি প্রকাশের প্রেক্ষিতে নরওয়ের সংসদে মঙ্গলবার রাজতন্ত্র বাতিল করে প্রজাতন্ত্র গঠনের প্রস্তাব নিয়ে ভোট নেওয়া হবে। যদিও প্রস্তাব পাশ হওয়ার সম্ভাবনা কম, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজপরিবারের জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় কমেছে।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোর বলেন, “নথিতে কারো নাম থাকা মানে অপরাধ প্রমাণিত নয়। তবে যারা যুক্ত, তাদের উচিত সত্য উদ্ঘাটন করা।” এপস্টিন নথিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থরবিয়র্ন ইয়াগল্যান্ডের নামও রয়েছে। তবে তিনি জানান, নথিতে আলোচিত পারিবারিক সফর করা হয়নি।

রাজপরিবারের এই সংকট এবং মারিয়াস হোইবির পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনা নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।