নতুন অধ্যায়ের সূচনা: বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের শপথগ্রহণ কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। অনুষ্ঠানটি সকাল পৌনে ১১টায় শুরু হয় এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রধান হিসেবে সভাপতিত্ব করেন।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। প্রথম ধাপে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথবাক্য পাঠ করেন। শপথ গ্রহণের পর তারা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন, যা সংবিধান অনুসারে কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।

এছাড়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও পর্যায়ক্রমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করবেন। শপথ গ্রহণের শেষ পর্যায়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরাও তাদের দায়িত্বের শপথ নেবেন।

বিএনপি–এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, এটি দলটির জন্য একটি নতুন প্রারম্ভ, যা জাতীয় রাজনীতিতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল দলের সিনিয়র নেতা এবং নতুন নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতির দৃশ্য।

নিচে নির্বাচিত প্রধান দলের কিছু সদস্যের শপথ গ্রহণের সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:

দলের নামনির্বাচিত সদস্য সংখ্যাশপথগ্রহণের তারিখপ্রধান প্রতিনিধি
বিএনপি৩০১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬তারেক রহমান
জামায়াতে ইসলামিপর্যায়ক্রমেনির্বাচন কমিশনার
স্বতন্ত্র১০পর্যায়ক্রমেনির্বাচন কমিশনার
অন্যান্য দল১৫পর্যায়ক্রমেনির্বাচন কমিশনার

সংবিধান অনুসারে, শপথগ্রহণ ছাড়া কোনো সংসদ সদস্য সংসদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি জনগণের আস্থা ও দায়িত্ববোধের পরিচায়ক।

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, এ ধরণের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবেও গণ্য করা হয়। আগামীদিনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।