কক্সবাজারের উখিয়ায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫) সোমবার (৩ মার্চ) গভীর রাতে বালুখালী পান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ পাঁচজনকে আটক করেছে। অভিযানটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১৫ কক্সবাজারের মিডিয়া কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক। তিনি জানান, অভিযানে আটক ব্যক্তিরা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং স্থানীয় এলাকায় মাদক ব্যবসা ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
আটক ব্যক্তিদের তালিকা
| নাম | বয়স | অবদান/প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|
| মো. আলম | ৩৩ | ২০২৪ সালে টেকনাফ থানায় অস্ত্র মামলার সাবেক আসামী |
| মো. রশিদ | ৪৪ | স্থানীয় ক্যাম্পের বাসিন্দা, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসায় জড়িত |
| সৈয়দ আলম | ২৯ | ডাকাতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত |
| নূর কামাল | ২৮ | স্থানীয় এলাকায় ডাকাতি ও মাদক চক্রে অংশগ্রহণ |
| জাহেদ উল্লাহ | ২১ | কিশোর বয়সে অপরাধ জড়িত, ডাকাতি ও অস্ত্র-ব্যবহারে অভিযুক্ত |
অভিযানকালে উদ্ধারকৃত সামগ্রী
দেশীয় তৈরি পিস্তল ও ম্যাগাজিন
চার রাউন্ড গুলি এবং ব্যবহৃত খোসা
একনলা বন্দুক
তিন রাউন্ড রাইফেলের গুলি
দুটি ফোল্ডিং স্টিলের ছুরি
তিনটি ধারালো বিশেষ আংটি
চারটি মোবাইল ফোন
বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিম কার্ড
র্যাব সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় উপস্থিতি টের পেয়ে আরও দুই থেকে তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি পালিয়ে যায়। সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড স্বীকার করেছে এবং বিষয়টি তদন্তে র্যাব সক্রিয় রয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের পাশাপাশি দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই অভিযান রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুত্ব এবং সন্ত্রাস ও অস্ত্রচক্রের বিরুদ্ধে র্যাবের জোরদার পদক্ষেপের পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ধরনের অভিযান স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং অস্ত্র ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। র্যাব বলেছে, ভবিষ্যতেও একই ধরনের পরিকল্পিত অভিযান অব্যাহত থাকবে যাতে অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।
