নড়াইল জেলা পুলিশ লাইনসের নারী ব্যারাকে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতের দিকে এক নারী পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের নাম মোছা নূরে জান্নাতুল ছনিয়া (২৬)। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার তালুতনগর গ্রামের মো. দুলাল মিয়ার কন্যা।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছনিয়া কয়েকদিন ধরে মানসিকভাবে হতাশা ও চাপের মধ্যে ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে তিনি নারী ব্যারকের একটি কক্ষে একা অবস্থায় নিজের ওড়না ফ্যানের সঙ্গে পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ছনিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল পুলিশ সুপার মো. আল মামুন সিকদার বলেন, “ছনিয়া ওই রাতে ব্যারকের রুমে একা ছিলেন। আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করি, তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান। প্রাথমিকভাবে এটি মানসিক চাপজনিত আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, ছনিয়া সাম্প্রতিক সময়ে মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত ছিলেন এবং ব্যক্তিগত কারণে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং দ্রুত ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে নড়াইল পুলিশ লাইনসের মাঠে মরদেহের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তারা মরদেহ নিজ বাড়ি মানিকগঞ্জে নিয়ে যান।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, মানসিক স্বাস্থ্য ও চাপের প্রতি সতর্ক থাকা জরুরি, বিশেষ করে পুলিশের মতো দায়িত্বপূর্ণ ও চাপপূর্ণ পেশায়। সহকর্মী এবং পরিবারের সমর্থন, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং নিয়মিত পরামর্শ নেওয়া এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | নড়াইল পুলিশ লাইনস, নারী ব্যারাক |
| তারিখ ও সময় | ১৯ মার্চ ২০২৬, রাত ২:৩০–৩টা |
| নিহত | মোছা নূরে জান্নাতুল ছনিয়া, ২৬ বছর |
| পেশা | নারী পুলিশ সদস্য |
| পরিবারের ঠিকানা | মানিকগঞ্জ, দৌলতপুর থানা, তালুতনগর গ্রাম |
| মৃত্যুর পদ্ধতি | ওড়না ফ্যানের সঙ্গে পেঁচিয়ে আত্মহত্যা |
| উদ্ধার কার্যক্রম | পুলিশ উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠায় |
| জানাজা | ২০ মার্চ ২০২৬, নড়াইল পুলিশ লাইনস মাঠে, পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
| প্রাথমিক কারণ | মানসিক চাপ ও হতাশা |
সব মিলিয়ে, নড়াইল পুলিশ লাইনসে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনা কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের অভ্যন্তরীণ সহায়তা ব্যবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবারের মনোবল সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
