ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সালমান ওমরের এক কর্মী নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত অনুযায়ী, এ হামলায় নেতৃত্ব দেন দুই স্থানীয় ব্যক্তি। ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং নিহতের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে। সালমান ওমরের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় হামলা চালানো হয়। আহত নজরুল ইসলামকে (৪০) উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বাড়ি ধোবাউড়ার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের বাকপাড়া রামসিংহপুর গ্রামে। পুলিশের হাতে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হামলায় নেতৃত্বদাতা ও প্রাসঙ্গিক ব্যক্তি
| নাম | সম্পর্ক/পদ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| আবদুল্লাহ আল নোমান | যুবদল ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিনের নাতি | হামলায় ছুরি ব্যবহার |
| আজহারুল ইসলাম | বিএনপির স্থানীয় কর্মী | হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ |
| ফরহাদ আল রাজী | যুবদলের সহ-সম্পাদক, ধোবাউড়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী | রাজনৈতিক প্রভাবিত |
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নোমান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিনের নাতি। আজহারুলও স্থানীয় বিএনপির কর্মী এবং নোমান যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সাবেক নেতা মফিজ উদ্দিন বলেন, “কার্যালয় উদ্বোধনের পর বকাঝকা ও উত্তেজনা শুরু হয়। সংঘর্ষের সময় আজহারুল এবং নোমান হামলায় জড়িত ছিলেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।”
নজরুলের লাশ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্তের পর ধোবাউড়া উপজেলা সদরে আনা হয়। বিকেল সাড়ে চারটায় লাশবাহী গাড়ি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন নিহতের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বিক্ষোভকারীরা বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান। মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বর পর্যন্ত চলে এবং সেখানে মানববন্ধনের মাধ্যমে শেষ হয়।
নজরুলের বড় ছেলে মো. সোলাইমান বলেন, “আমার বাবা সবসময় মানুষের উপকার করেছেন। তার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাই।”
পুলিশ সূত্র জানায়, নিহতের ছেলে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০–২২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আদম আলী, বিএনপি সদস্য দুলাল মিয়া এবং ওয়ার্ড সভাপতি মো. ইব্রাহিম। গ্রেপ্তারকৃতদের ময়নাতদন্ত শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নির্বাচনময় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরশাদ বাজারে হামলার স্থানে এখনও রক্তের দাগ দেখা যায়। স্থানীয় দোকানি সাইফুল ইসলাম বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থীর কার্যালয় থাকার কারণে উত্তেজনা শুরু হয়। কে ছুরিকাঘাত করেছে, তা দেখিনি। তবে পরিস্থিতি খুবই দুঃখজনক।”
