নারায়ণগঞ্জ শহরের মণ্ডলপাড়া এলাকায় সোমবার ভোরে পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমানের কাছ থেকে সরকারি পিস্তল ছিনিয়ে নিল একদল ছিনতাইকারী। এই ঘটনা নগর ভবনের সামনে ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়িতে এএসআই লুৎফর রহমান দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন কনস্টেবল মতিউর রহমান ও ফয়সাল হোসেন। ভোরের দিকে এএসআই লুৎফর রহমান মোটরসাইকেলযোগে মণ্ডলপাড়া নগর ভবনের সামনে গেলে তিনজন অজ্ঞাত ছিনতাইকারী, যারা একটি মোটরসাইকেলে ছিলেন, তাঁকে থামানোর চেষ্টা করে।
ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এএসআই লুৎফর রহমানের ওপর হামলা চালায় এবং তাঁর কোমরে থাকা সরকারি পিস্তল দ্রুত ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। হামলার সময় তিনি গুরুতর আহত হননি, তবে মানসিকভাবে চাপে ছিলেন।
ঘটনার পর জেলা পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করেছে। তবে দুপুর পর্যন্ত ছিনতাই করা পিস্তল উদ্ধার বা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার সম্ভব হয়নি।
জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, “ভোরে এএসআই লুৎফর রহমানের ওপর হামলা চালিয়ে তার সরকারি পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তৎপরভাবে অভিযান চালাচ্ছি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মণ্ডলপাড়া এলাকায় সর্বশেষ ছিনতাইয়ের ঘটনা কমপক্ষে দুই সপ্তাহ আগে ঘটেছিল। এ ধরনের হামলা শহরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। পুলিশ এলাকায় অতিরিক্ত টহল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিচের টেবিলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | মণ্ডলপাড়া, নারায়ণগঞ্জ |
| সময় | সোমবার ভোর |
| প্রাথমিকভাবে আহত | নেই |
| ক্ষতিগ্রস্ত | এএসআই লুৎফর রহমানের সরকারি পিস্তল |
| অভিযুক্ত | তিনজন অজ্ঞাত ছিনতাইকারী |
| পুলিশ অভিযান | চলমান |
পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে নগর ভবনের আশেপাশের এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে। এ ঘটনায় জনগণকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে এবং কেউ সন্দেহজনক কার্যকলাপে দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ সজাগ ও সচেতন থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
এই ঘটনায় পুলিশি তদন্ত এবং দ্রুত অস্ত্র উদ্ধার ও অভিযুক্ত গ্রেপ্তারের জন্য জেলা পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
