দায়েজন মহানগর পুলিশ ব্যুরো সম্প্রতি একটি সুপরিকল্পিত বীমা জালিয়াতির চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগ অনুসারে, এই চক্রটি পরিকল্পিতভাবে গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে উচ্চমূল্যের আমদানি করা গাড়ির বীমা দাবি করত। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, প্রধান সন্দেহভাজন ও তার সহযোগীসহ মোট আট জনকে আটক না করে প্রসিকিউশনের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ বীমা জালিয়াতি প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটি ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত পাঁচটি পরিকল্পিত দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। এই ঘটনায় তিনটি বীমা কোম্পানি প্রায় ৩০ কোটি ওয়ান (প্রায় ২০৪,৪০০ মার্কিন ডলার) ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তদন্তে দেখা গেছে, প্রধান সন্দেহভাজন একজন প্রাক্তন বীমা কোম্পানির কর্মী। তিনি নিজে একটি গাড়ি মেরামতির দোকান পরিচালনা করতেন, যা বীমা এজেন্সি হিসাবেও কাজ করত। তিনি দুর্ঘটনায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘোষিত উচ্চমূল্যের গাড়ি নিলামে কিনে আংশিক বাহ্যিক মেরামত করতেন। এরপর তার সহযোগীরা ওই গাড়িগুলোকে সড়কে রেখে পরিকল্পিতভাবে দুর্ঘটনা ঘটাত।
চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে — দায়েজন, সাউথ চুংচুং এবং গ্যাংগি — কার্যক্রম চালাত। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই জালিয়াতি থেকে প্রাপ্ত অর্থ সম্পূর্ণভাবে জীবনযাপনের খরচে ব্যবহৃত হতো। চক্রের কেউ পূর্বে ট্রাফিক দুর্ঘটনায় বীমা জালিয়াতির অপরাধে দণ্ডিত হয়নি।
চক্রে ব্যবহৃত গাড়ির মধ্যে ছিল উচ্চমানের আমদানি গাড়ি যেমন BMW, Maserati, Tesla, পাশাপাশি সাম্প্রতিক জনপ্রিয় ক্যাম্পার ভ্যান।
নিচের টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| ধারা | তথ্য |
|---|---|
| সন্দেহভাজন সংখ্যা | ৮ জন |
| প্রধান সন্দেহভাজন | প্রাক্তন বীমা কোম্পানি কর্মী |
| দুর্ঘটনার সংখ্যা | ৫টি (২০১৯-২০২৪) |
| ক্ষতিগ্রস্ত বীমা কোম্পানি | ৩টি |
| মোট বীমা দাবি | ৩০ কোটি ওয়ান (~২০৪,৪০০ ডলার) |
| ব্যবহৃত গাড়ি | BMW, Maserati, Tesla, ক্যাম্পার ভ্যান |
| উল্লেখযোগ্য ঘটনা | ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর: BMW ও ক্যাম্পার ভ্যান সংঘর্ষ, ১২০ মিলিয়ন ওয়ান বীমা দাবি, গুরুতর আহত |
একটি উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে BMW ও ক্যাম্পার ভ্যানের সংঘর্ষ ঘটেছিল। উভয় গাড়িই বিধ্বস্ত হয় এবং জড়িতরা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
দায়েজন পুলিশের মুখপাত্র বলেন, “এটি প্রাক্তন বীমা কোম্পানি কর্মী দ্বারা পরিকল্পিত ট্রাফিক দুর্ঘটনা জালিয়াতির নিখুঁত উদাহরণ। আমরা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করে সাধারণ মানুষকে বীমা জালিয়াতির বোঝা থেকে রক্ষা করতে চাই।”
পুলিশের তদন্ত শুরু হয়েছিল একটি বীমা কোম্পানির সন্দেহজনক কার্যক্রম রিপোর্ট করার পর। সব সন্দেহভাজনকে চার্জসহ আটক বা প্রসিকিউশনের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
