নওগাঁয় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

নওগাঁ জেলার ধামইরহাট ও মান্দা উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে বজ্রপাতে দুইজন কৃষকের অকাল মৃত্যু ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হঠাৎ চলমান বৃষ্টির সময় কৃষকরা মাঠ ও বিলের পাশে কাজ করছিলেন। বজ্রবিদ্যুতের আকস্মিক আঘাতে তাদের প্রাণহানি ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিবরণ

প্রথম ঘটনা ঘটেছে ধামইরহাট উপজেলার ভাবির মোড় এলাকায়। নিহত জালাল উদ্দীন মোখলেসুর রহমানের ছেলে, বাড়ির পাশে অবস্থিত একটি বিলে শসা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন। স্থানীয়রা জানান, বজ্রপাতের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁর দেহ বাড়িতে নিয়ে যান।

দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে মান্দা উপজেলার চকরামপুর মধ্যপাড়া ঈদগাহ সংলগ্ন এলাকায়। পিন্টু মোসলেমের ছেলে ধানের মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতের আঘাতে নিহত হন। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হন, যাকে দ্রুত উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।

পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছি।”
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, “পিন্টু ধানের জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাত ঘটে। আহত ব্যক্তি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।”

বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যুর পরিসংখ্যান

নওগাঁ জেলায় বসন্ত ও গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে কৃষকদের অকালমৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। গত তিন বছরে জেলা বিভিন্ন উপজেলায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত তথ্য নিম্নে দেওয়া হলো:

বছরমৃত্যু সংখ্যাউপজেলামৃত্যুকারণ
২০২৩ধামইরহাট, মান্দামাঠ ও বিলের পাশে বজ্রপাত
২০২৪পত্নীতলা, নওগাঁ সদরধানক্ষেত ও মাঠে বজ্রপাত
২০২৫ধামইরহাট, মান্দা, আত্রাইকৃষি কাজে বজ্রপাত

সতর্কবার্তা ও পরামর্শ

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে পরামর্শ দিচ্ছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, বিল বা পুকুরের পাশে থাকা থেকে বিরত থাকতে। বজ্রবিদ্যুতের আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা বা বাড়ির ভিতরে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ।

নওগাঁ জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কৃষক সম্প্রদায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত নজরে রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। কৃষক ও সাধারণ জনগণকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ এড়িয়ে চলতে এবং বজ্রপাতের সময় দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনা নওগাঁর কৃষি সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অকালমৃত্যু এড়ানো সম্ভব হয়।