ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা, অবরোধ এবং দুর্ভিক্ষে গাজায় প্রতিদিনই বাড়ছে প্রাণহানি। লাগাতার বোমাবর্ষণে মাত্র একদিনেই আরও অন্তত ৬৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৩৬৮ জনে। বার্তাসংস্থা আনাদোলু রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সর্বশেষ হতাহতের পরিসংখ্যান
| সময়কাল/ঘটনা | নিহত | আহত | মন্তব্য |
| সর্বমোট (অক্টোবর ২০২৩–বর্তমান) | ৬৪,৩৬৮+ | ১,৬২,৩৬৭+ | অব্যাহত হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে |
| গত ২৪ ঘণ্টায় | ৬৮ | ৩৬২ | হাসপাতালগুলোতে মরদেহ ও আহত আনা হয়েছে |
| মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে (২৭ মে–৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫) | ২,৩৮৫ | ১৭,৫৭৭+ | ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে হতাহত |
| অপুষ্টি ও অনাহারে (অক্টোবর ২০২৩–বর্তমান) | ৩৮২ (এর মধ্যে ১৩৫ শিশু) | — | গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু |
| নতুন হামলা (১৮ মার্চ ২০২৫–বর্তমান) | ১১,৮২৮ | ৫০,৩২৬ | জানুয়ারির যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে গেছে |
মানবিক সংকট ও দুর্ভিক্ষ
- বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপে এবং রাস্তায় পড়ে আছেন; উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের পৌঁছাতে পারছেন না।
- ইসরায়েল ২ মার্চ থেকে গাজার সব সীমান্ত ক্রসিং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ২৪ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ড ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে নিমজ্জিত।
- জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা জরিপে গাজার উত্তরাঞ্চলে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, চলতি মাসের শেষ নাগাদ এ দুর্ভিক্ষ দক্ষিণাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে।
সামরিক অভিযান ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
- শুক্রবার গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ৭০০তম দিনে প্রবেশ করেছে। টানা এই আক্রমণে গোটা অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং মানুষ গভীর খাদ্য সংকটে ভুগছে।
- আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গত বছরের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- একইসঙ্গে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা চলমান।
