ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আবুল বাশার আকন্দের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফুলপুর উপজেলার বালিয়া মোড় এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন। হামলায় সাবেক এমপির গাড়ি ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে এবং তার চালক আরমান গুরুতর আহত হয়েছেন।
Table of Contents
ঘটনার বিবরণ ও সংঘর্ষ
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেলে বালিয়া মোড় এলাকায় একটি তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তা পরিদর্শন করতে যান সাবেক এমপি আবুল বাশার আকন্দ। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একদল যুবক তার ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ব্যক্তিগত গাড়ির চারপাশের কাচ গুঁড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশ যখন তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন সাবেক এমপির সমর্থকরা হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এ সময় বিএনপির অপর একটি পক্ষের সাথে বাশার আকন্দের অনুসারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও পরাজয়ের পরিসংখ্যান
ময়মনসিংহ-২ আসনে এবারের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন আবুল বাশার আকন্দ। তবে দল মোতাহার হোসেন তালুকদারকে মনোনয়ন দিলে বাশার আকন্দ ও তার অনুসারীরা নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে নিস্ক্রিয় থাকেন। এমনকি স্থানীয়দের দাবি, তারা পরোক্ষভাবে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। এই আসনে নির্বাচনের ফলাফল ছিল নিম্নরূপ:
| প্রার্থীর নাম | রাজনৈতিক দল/জোট | প্রাপ্ত ভোট | ফলাফল |
| মুহাম্মদুল্লাহ | বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (১১-দলীয় জোট) | ১,৪৬,২০২ | বিজয়ী |
| মোতাহার হোসেন তালুকদার | বিএনপি (ধানের শীষ) | ১,১৮,৪৩৮ | পরাজিত |
| পার্থক্য | – | ২৭,৭৬৪ | – |
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
হামলার শিকার আবুল বাশার আকন্দ সরাসরি জেলা যুবদল নেতা ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুন ও এমরান হাসান পল্লবের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, “আমি ক্ষতিগ্রস্ত গুদাম দেখতে গিয়েছিলাম, সেখানে কোনো কারণ ছাড়াই মিঠুন ও পল্লবের নেতৃত্বে আমার ওপর হামলা হয়েছে। তারা আমার চালককে আহত করেছে এবং গাড়ি ভাঙচুর করেছে।”
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুন বলেন, “সাবেক এমপি সাহেব দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তিনি ধানের শীষের পক্ষে কাজ না করে রিকশা মার্কার পক্ষে কাজ করেছেন। সাধারণ নেতা-কর্মীরা তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিল। আমি বরং সেখানে গিয়ে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।”
বর্তমান পরিস্থিতি
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানিয়েছেন, পরাজয়ের ক্ষোভ থেকে ধানের শীষের প্রার্থীর কতিপয় সমর্থক এই হামলাটি ঘটিয়েছে। পুলিশ খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাবেক এমপিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এই ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি।
