ধানখেতে অর্ধপোতা নারীর লাশ, স্বামী পলাতক

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় এক নারীকে হত্যা করে ধানখেতে পুঁতে রাখার চেষ্টার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের বিলেরঘাট এলাকার একটি ধানখেত থেকে অর্ধপোতা অবস্থায় ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তাঁর স্বামী পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছে।

নিহত নারীর নাম আশুরা বেগম (৪৫)। তিনি বিলেরঘাট এলাকার সুতার গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যুর পর বাবলু হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। তবে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, যা এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে আশুরা বেগমকে তাঁর তৃতীয় স্বামী বাবলু হোসেনের সঙ্গে দেখা যায়। এরপর রাতে গুচ্ছগ্রামের পাশের একটি ধানখেতে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেন কয়েকজন গ্রামবাসী। কাছে গিয়ে তাঁরা মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে রাত প্রায় দশটার দিকে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তুষার হোসেন জানান, লাশটি যেভাবে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল, তাতে একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তাঁর মতে, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা সমাজে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়িয়ে তোলে।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান বলেন, আশুরা বেগমকে হত্যার পর লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে মাটিচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে এবং প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে স্বামী বাবলু হোসেনকে খোঁজা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।

লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

গ্রামাঞ্চলে নারী নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগের কঠোরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিষয়তথ্য
ঘটনার স্থানবিলেরঘাট, তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন, ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট
ঘটনার সময়শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা
নিহতের নামআশুরা বেগম
বয়স৪৫ বছর
পেশাগৃহিণী
বসবাসসুতার গুচ্ছগ্রাম
সন্দেহভাজনস্বামী বাবলু হোসেন
লাশের অবস্থাঅর্ধপোতা
উদ্ধাকারী সংস্থাক্ষেতলাল থানা পুলিশ
ময়নাতদন্তের স্থানজয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল
সম্ভাব্য কারণদাম্পত্য কলহ
বর্তমান অবস্থাস্বামী পলাতক, তদন্ত চলমান

এ ঘটনায় দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।