ঢাকার আদালতে আবারও নতুন মামলার মুখোমুখি হয়েছেন আলোচিত বাউল শিল্পী আবুল সরকার। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সোমবার এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দাখিল করেছেন ডা. মো. মাহফুজুর রহমান, যিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিউরোট্রমা সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী সোলাইমান তুষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, আবুল সরকার সম্প্রতি মানিকগঞ্জে অনুষ্ঠিত একটি মেলায় উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পরিবেশিত এক গানে আল্লাহকে নিয়ে তার মন্তব্যগুলোকে অবমাননাকর ও অশ্লীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই মন্তব্যগুলো বাংলাদেশের সাধারণ ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মামলায় আবুল সরকারের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২৯৫ এবং ২৯৫ (ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ধারা অনুসারে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তদন্তের পরে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
আইন ও সমাজবিদরা মনে করছেন, এ ধরনের মামলা শুধু ব্যক্তিগত অভিযোগের সীমা অতিক্রম করে না, বরং এটি সামাজিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক নীতিমালার সঙ্গে সম্পর্কিত। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এমন বিতর্কিত বক্তব্য দেশের ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুলিশ সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করবেন এবং মামলার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন। প্রতিবেদনের পর আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের শিল্পী ও বাউল সমাজকে তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনগত ও সামাজিক সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে, বিচার ব্যবস্থার ভূমিকা সমাজে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে, আবুল সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি। তবে আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইন অনুযায়ী কার্যকরভাবে তদন্ত সম্পন্ন করতে বিশেষ নজর রাখা হবে। মামলাটি সমাজে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সাংস্কৃতিক দায়িত্বের প্রশ্নও তুলেছে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হতে পারে।
