দ. কোরিয়ার কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১১ জন শ্রমিক

দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যাঞ্চলের দেজিয়ন শহরে শুক্রবার একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় ৫৯ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা গুরুতর। তাছাড়া তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছেন।

অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে দুপুর ১টার দিকে, যখন কারখানায় প্রায় ১৭০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এখনো অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানা যায়নি।

কারখানার ভবনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং ভবন ধসে পড়ার সম্ভাবনার কারণে দমকল কর্মীরা প্রথম দিকে সরাসরি উদ্ধারকাজে প্রবেশ করতে পারেননি। এছাড়া কারখানায় মজুদ থাকা সোডিয়ামের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে ওঠে। সোডিয়াম ভুলভাবে নাড়াচাড়া করলে তা বিস্ফোরিত হতে পারে, যা দমকল কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা নিশ্চিত করেছি যে ১১ জন নিহত হয়েছেন, ২৫ জন গুরুতর আহত এবং ৩৪ জন আহত হলেও তাদের অবস্থা গুরুতর নয়। এছাড়া তিনজন এখনও নিখোঁজ।”

শনিবার বিকেল নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। রাষ্ট্রপতি লি জে মিয়ং উদ্ধারকাজে সমস্ত উপলব্ধ সম্পদ ও জনবল ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দেশে শ্রমিকদের জন্য আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশজুড়ে কর্মক্ষেত্রে দশ হাজারের বেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আবারও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও জরুরি প্রটোকল মেনে চলার গুরুত্ব浮ছে সামনে।

নিচে অগ্নিকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়বিবরণ
স্থানদেজিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া
ঘটনাগাড়ির যন্ত্রাংশ কারখানায় অগ্নিকাণ্ড
তারিখ ও সময়২০ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১টা
নিহত১১ জন
গুরুতর আহত২৫ জন
সাধারণ আহত৩৪ জন
নিখোঁজ৩ জন
শ্রমিক উপস্থিতিপ্রায় ১৭০ জন
প্রতিক্রিয়ারাষ্ট্রপতি উদ্ধারকাজে সম্পদ ও জনবল বৃদ্ধি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা আহ্বান
উদ্ধার পরিস্থিতিভবন ধসে পড়ার ঝুঁকি ও সোডিয়ামের কারণে তল্লাশি কঠিন

সব মিলিয়ে, দেজিয়নের এই অগ্নিকাণ্ড শুধু মানবিক ক্ষতি নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব ও জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্বও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এটি দেশজুড়ে শ্রমিক নিরাপত্তার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।