খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:২১ পিএম

গত চার বছরে দক্ষিণ এশিয়ার অন্তত তিনটি দেশে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে সরকার পতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগে বাধ্য হন ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি, বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সংঘটিত সহিংস বিক্ষোভের কারণে।
শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মতো নেপালও দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক মন্দা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের ঘাটতির সংকটে ভুগছে। দেশটিতে ২০০৪ সাল থেকে বেকারত্বের হার ১০ শতাংশের বেশি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এই কারণে নেপাল বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ (রেমিট্যান্স) এবং বৈদেশিক সহায়তার ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য ডিপ্লোম্যাট এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, নেপালের চলমান সংকট কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিফলন নয়, বরং বাইরের শক্তির প্রভাবও এতে ভূমিকা রাখছে। দক্ষিণ এশিয়ার জটিল ভূ-রাজনীতিতে নেপালের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত সরাসরি এর প্রভাবে পড়বে। একইভাবে চীনও এই অস্থিরতা থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকতে পারবে না।
গত দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থায়নের মাধ্যমে চীনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবুও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বেইজিংয়ের কার্যকর কৌশল প্রায় অনুপস্থিত। সাম্প্রতিক নেপালি অস্থিরতায় চীনের প্রতিক্রিয়া ছিল তুলনামূলকভাবে শান্ত ও সতর্ক।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেবল “প্রতিবাদ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত নেপালে “সামাজিক শৃঙ্খলা ও জাতীয় স্থিতিশীলতা” ফিরে আসবে। একইসঙ্গে, অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির নিয়োগের বিষয়ে চীন জানায়: “চীন সবসময় নেপালের জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানায়।”
দ্য ডিপ্লোম্যাট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, চীনের এই কূটনৈতিক অবস্থানকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে বেইজিং মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ারও চেষ্টা করেছে। তবে নেপালের সাম্প্রতিক অস্থিরতায় তারা অতীতের মতো সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে অপেক্ষাকৃত নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে।
মন্তব্য